স্ত্রী হত্যায় ১০ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
উপর্যুপরি অস্ত্রের আঘাতে স্ত্রীকে হত্যা করেন স্বামী। প্রায় ১০ বছর পর সেই মামলায় ইসমাইল সাগর মিয়া নামের ওই আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইসমাইল সাগর বাজিতপুর উপজেলার উত্তর সরারচর এলাকার মৃত আয়েত আলীর ছেলে। নিহত ঝর্ণা আক্তার তার স্ত্রী। তাদের দুই মেয়ে রয়েছে। ইসমাইল এ মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রীকে প্রায়ই নির্যাতন ও মারধর করতেন ইসমাইল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল রাতে দুই মেয়েকে নিয়ে গাজীপুরের ভাড়া বাসা থেকে বাজিতপুর উপজেলার নিলখী নয়াহাটে মায়ের বাড়িতে চলে আসেন ঝর্ণা। সেখানে তিনি মাকে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান।
এর পরদিন রাত পৌনে ৮টার দিকে দুজনকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান ইসমাইল। তখন ঝর্ণা বাড়ির পূর্ব পাশে মাটির চুলায় রান্না করছিলেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ইসমাইল কোমর থেকে ধারালো ছুরি বের করে ঝর্ণাকে আঘাত করেন। পরে আরও দুইবার ছুরিকাঘাত করা হয়। একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাকে কিল-ঘুসি ও লাথি মারা হয়।
এসময় ঝর্ণার বোন স্বপ্না আক্তারসহ রাজিব মিয়া ও সবুজ মিয়া বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন সবুজ মিয়াকেও ছুরিকাঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান ইসমাইল। পরে স্বজনরা গুরুতর আহত ঝর্ণাকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা জাহেরা বেগম বাদী হয়ে ইসমাইল সাগর মিয়া ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনের বিরুদ্ধে বাজিতপুর থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করেন আদালত।
কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
