মূল লেখায় যান
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জাতিসংঘ সফর: প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন এইমাত্রঅন্যান্য জাতিসংঘ সফর: প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন এমপি নজরুলের রিমান্ডে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যসব তথ্য এইমাত্রঅন্যান্য এমপি নজরুলের রিমান্ডে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যসব তথ্য যশোরে নিজ স্ত্রীকে বন্ধুর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার পর যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু এইমাত্রঅন্যান্য যশোরে নিজ স্ত্রীকে বন্ধুর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার পর যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু ঢাকার আশপাশে শরতের সেরা কাশফুলের ঠিকানা এইমাত্রঅন্যান্য ঢাকার আশপাশে শরতের সেরা কাশফুলের ঠিকানা সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে শিপু এইমাত্রঅন্যান্য সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে শিপু লন্ডনের বাঙ্গালি পাড়ায় এখন পরিচিত জনপ্রিয় মুখ শারমিন আহমেদ বিথী এইমাত্রঅন্যান্য লন্ডনের বাঙ্গালি পাড়ায় এখন পরিচিত জনপ্রিয় মুখ শারমিন আহমেদ বিথী এবার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বোমা সদৃশ বস্তু, ঘিরে রেখেছে এসআরবি এইমাত্রঅন্যান্য এবার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বোমা সদৃশ বস্তু, ঘিরে রেখেছে এসআরবি আকাশসীমার অনুমতি না মেলায় আটকে গেল রূপপুরের ইউরেনিয়াম এইমাত্রঅন্যান্য আকাশসীমার অনুমতি না মেলায় আটকে গেল রূপপুরের ইউরেনিয়াম
অন্যান্য

যশোরে নিজ স্ত্রীকে বন্ধুর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার পর যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

প্রতিবেদক:
যশোরে নিজ স্ত্রীকে বন্ধুর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার পর যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

যশোরের মণিরামপুরে বন্ধুর সঙ্গে নিজ স্ত্রীকে বিয়ে দেওয়ার ১২ দিন পর মিথুন হোসেন (২৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার মান্দারতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিথুন ওই এলাকার মশিয়ার রহমানের ছেলে।

স্বজনদের অভিযোগ, স্ত্রী সাথীর সঙ্গে মালয়েশিয়া প্রবাসী সুমন নামে এক যুবকের সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর মিথুন নিজে উপস্থিত থেকে তাদের বিয়ে দেন। এরপর থেকেই পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন তিনি। তবে মিথুনের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে নারাজ পরিবারের কয়েকজন সদস্য। তাদের দাবি, সাথী ও সুমনের কারণে মিথুনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

যদিও পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্মাণশ্রমিক মিথুন প্রায় ১০ বছর আগে একই উপজেলার মধুপুর গ্রামের সাথীকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। তাদের ছয় ও চার বছর বয়সী দুই ছেলে রয়েছে। মিথুনের বন্ধু ও প্রতিবেশী সুমনের সঙ্গে তার ছোটবেলা থেকেই পরিচয় ছিল। সেই সূত্রে সাথীর সঙ্গেও সুমনের পরিচয় হয়। প্রায় চার বছর আগে সুমন মালয়েশিয়ায় যান। পরে দেশে ফিরে কয়েক দিন থাকার পর তিন মাস আগে আবার মালয়েশিয়ায় চলে যান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একপর্যায়ে সুমনের সঙ্গে সাথীর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি জানতে পারেন মিথুন। স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করেও পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় তিনি নিজে উপস্থিত থেকে একটি কাজী অফিসে নিয়ে সাথীকে সুমনের সঙ্গে বিয়ে দেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

মিথুনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পল্লি চিকিৎসক মুবাসসের আল মুবিন বলেন, তিন দিন আগে মিথুনের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। তখন তাকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া অবস্থায় দেখেন তিনি। একটি নম্বরে ফোন করে মিথুনকে কান্নাকাটি করতে এবং ক্ষমা চাইতে দেখেছিলেন তিনি। কারণ জানতে চাইলে মিথুন তাকে জানান, তিনি নিজে উপস্থিত থেকে স্ত্রীকে অন্যত্র বিয়ে দিয়েছেন। মিথুন আরও বলেছিলেন, সুমন তার পরিচিত এবং সম্পর্কে চাচাতো ভাই। পারিবারিকভাবে বিভিন্ন ধরনের চাপের মধ্যে ছিলেন মিথুন। দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি স্ত্রীকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে তাকে জানিয়েছিলেন।

নিহতের মা রওশনারা বলেন, তারা এসব বিষয় আগে জানতেন না। তার দাবি, ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিল। রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াও হয়। কিছুক্ষণ পর সাথী এসে তাদের জানান, মিথুন আত্মহত্যা করেছেন। রওশনারা অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে হত্যা করে পরে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাথী বলেন, মিথুন নিজেই সুমনকে ফোন করে স্ত্রী ও সন্তানদের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। প্রথমে সুমন রাজি না হলেও পরে মিথুনের চাপে রাজি হন বলে দাবি তার। সাথীর ভাষ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর মিথুন তাকে শরীর ছুঁয়ে শপথ করিয়ে সুমনকে বিয়ে করতে রাজি করান। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর নওয়াপাড়ার ধোপাদি এলাকার একটি কাজী অফিসে নিয়ে সুমনের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়। ওই কাগজে মিথুন সাক্ষী হিসেবেও স্বাক্ষর করেন বলে দাবি করেন তিনি।

সাথী আরও দাবি করেন, রবিবার রাতে এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিথুন আত্মহত্যা করেন।

অন্যদিকে, সুমন বিদেশে থাকায় তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ভগ্নিপতি রাকিব হোসেন বলেন, মিথুনের মৃত্যুর পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। রাকিবের ভাষ্য, মিথুন ও সুমনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল।

এদিকে, মিথুনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তার বাড়িতে ভিড় করেন। এক প্রতিবেশীর ভাষ্য, ওই সময় সাথী ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে দরজা খুলে তাকে বাইরে আনা হয়।

মণিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদ বলেন, আত্মহত্যার খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ওসি আরও জানান, ওই যুবকের স্ত্রীর আরেকটি বিয়ের বিষয়ে পুলিশ জেনেছে। পরিবার চাইলে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবার কোনো এজাহার দেয়নি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।