মূল লেখায় যান
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

বাবরি মসজিদ তৈরি করতে চাওয়া সেই কবির দিলেন রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত

প্রতিবেদক:
বাবরি মসজিদ তৈরি করতে চাওয়া সেই কবির দিলেন রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন চলাকালে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি হেনস্তা ও আটকের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ হুমায়ুন কবীর। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর রাজ্য বিধানসভার কোনো অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা পুরোপুরি বয়কট করার ঘোষণাও দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে কবীর বলেন, ‘কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে—এ ধরনের গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

এর আগে মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে আইন ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট করা হয়েছে। তবে তাঁর এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো রাজ্য সরকার বা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুই আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়।

কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া বিধানসভার বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি—মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি—থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

পুলিশি হয়রানির অভিযোগ, বিধানসভা বয়কট এবং সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমায়ুন কবীরের এই ঘোষণাকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।