চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে হাসপাতালের লিফটে সন্তান প্রসব, মিলছে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা
মানসিক ভারসাম্যহীন প্রিয়াঙ্কা রায় নামে এক প্রসূতি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিএম হাসপাতালের লিফট দিয়ে ওপরে উঠছিলেন । কিন্তু লিফটের মধ্যে ওই প্রসূতির গর্ভের পানি ভাঙা শুরু হলে হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা কাপড় দিয়ে লিফটি ঘিরে সেখানেই শিশুটিকে প্রসব করান।
শিশু প্রসবের পর মা ও বাচ্চার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত শিশুকে এনআইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা) ভর্তি করানো হয়। তবে মাকে বেডে রেখেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। উপজেলার বারইয়ারহাটে অবস্থিত বিএম হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
মা কিছুটা সুস্থ হলেও বাচ্চা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার মিরসরাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাবরিনা লিনা, মিরসরাই পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহন দে, জোরারগঞ্জ আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেনের উপস্থিতিতে বিএম হাসপাতালের আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর এই খরচ সম্পূর্ণ বহন করেছে বিএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বিএম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ওসমান গণি ভূইয়া বলেন, বুধবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতালে আসা ওই নারীর শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। আমরা উপায় না পেয়ে লিফটিকে কাপড় দিয়ে ঘিরে বাচ্চা প্রসব করাতে বাধ্য হয়েছি। বর্তমানে মা অনেকটা সুস্থ থাকলেও বাচ্চার শারীরিক অবস্থা শঙ্কামুক্ত না হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোগীর সকল খরচ আমরা বহন করেছি। এমনকি আমরা খাওয়া খরচও দিয়েছি।
এদিকে ওই নারীর সাথে কোনো অভিভাবককে খুঁজে না পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্বিধায় পড়ে যান। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর প্রিয়াঙ্কা নামের মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীর স্বামী মিলন রায়কে খুঁজে বের করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মিলন রায়ের বাড়ি উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাবরিনা লিনা বলেন, বুধবার রাতে খবর পেয়ে আমি বিএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রোগীর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বলি। পরে বৃহস্পতিবার রোগীর অভিভাবককে খুঁজে বের করে বাচ্চাটিকে বিএম হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাচ্চা প্রসব থেকে শুরু করে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা ও মায়ের সকল চিকিৎসা বিনামূল্যে করেছে।
