পাওনা টাকা চাওয়ায় যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা
কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলায় পাওনা ২ হাজার ৪০০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মো. ইমরান (৩৮) নামে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের প্যাড়াভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমরান মারিয়া ইউনিয়নের মধ্য কাতিয়ারচর এলাকার মৃত আব্দুস শহীদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্যাড়াভাঙ্গা এলাকার আবুল কালামের কাছে ইমরানের ২ হাজার ৪০০ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা আনতে সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হন ইমরান। পরে আবুল কালামের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা চাইলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আবুল কালাম, তার স্ত্রী স্বর্ণা এবং বড় ভাইয়ের স্ত্রী মোছা. রুমা আক্তার ইমরানের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় আবুল কালাম ছুরি দিয়ে ইমরানকে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হন ইমরান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ইমরানের বড় ভাই মানিক মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মাত্র ২ হাজার ৪০০ টাকার জন্য আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। সামান্য কিছু টাকার জন্য আমার ভাইকে এভাবে প্রাণ দিতে হবে, তা কখনো ভাবিনি। আমাদের সঙ্গে শুধু পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। কিন্তু সেই বিরোধের জেরে আমার ভাইকে আর ফিরে পাব না। আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই। যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আমি তাদের ফাঁসি চাই, যেন ভবিষ্যতে কেউ সামান্য টাকার জন্য এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়।”
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা নিয়ে আবুল কালামের সঙ্গে ইমরানের বিরোধ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আবুল কালামের বাড়ির সামনে তাঁদের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়।
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে বাড়ির লোকজন ইমরানকে জাপটে ধরেন এবং আবুল কালাম ছুরি দিয়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে।
