মূল লেখায় যান
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ২:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজনীতি

আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিন: শফিকুর রহমান

প্রতিবেদক: বাংলা ব্রিফ
আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিন: শফিকুর রহমান

যুবসমাজের উদ্দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণ ফ্যাসিবাদকে বিদায় দিয়েছে। এখন যদি নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ দেখা দেয়, প্রয়োজনে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায় ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সংসদে এ বিষয়ে সমাধান না হলে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে জনগণের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন। তার ভাষায়, যেখানে স্পিকারের অনুমতি লাগে না, সেখানে তারা সরাসরি জনগণের সঙ্গে কথা বলবেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশায় পরিবর্তনের পক্ষে ছিল, কিন্তু সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। অতীতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের মাধ্যমে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা চান না। একই সঙ্গে অন্যায়, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবেন না।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো বিদেশি আধিপত্য বা আগ্রাসনের সামনে দেশ মাথা নত করবে না।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ ও মাওলানা মামুনুল হক।

মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, গণভোটে জনগণ যে সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, পরে তা থেকে সরে এসেছে সরকার।

অলি আহমদ বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের লক্ষ্য বৈষম্য, দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ ও গণভোট ইস্যুতে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক দায়িত্ব।

সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়ন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা—এই তিনটি বিষয় এখন সময়ের প্রধান দাবি। তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এ সময় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

এছাড়া জাগপা’র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন বক্তব্য রাখেন।

বিভাগীয় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মোবারক হোসাইন, জামায়াতের খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি এবং মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপিও সমাবেশে বক্তব্য দেন।