ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু মানুষ, কেউ আসছেন না উদ্ধারে
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাতিয়া লা মার শহর। প্রবল কম্পনে শহরের বহু বাড়িঘর ও বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ধসে পড়া ভবনের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন। সারারাত ধরে স্বজনরা তাদের খোঁজার চেষ্টা চালালেও পর্যাপ্ত উদ্ধার তৎপরতা না থাকায় অনেককে বের করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ থাকার পরও উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না।
৪৯ বছর বয়সী ল্যারি রোজাস তার ধসে পড়া বাড়ির সামনে বসে অসহায়ভাবে অপেক্ষা করছেন। বাড়িটির ভেতরে তার কয়েকজন আত্মীয় আটকা পড়ে আছেন। তিনি বলেন, “আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ধসে পড়া ভবনের কাছে যাওয়ার মতো শক্তিটুকুও নেই।”
এদিকে আরেক নারী জানান, তার মেয়ে একটি ১২ তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছে। ভূমিকম্পের ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো জীবিত মানুষ রয়েছে। কিন্তু তাদের বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসছে না।”
ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে পৌঁছেছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, এ দুর্যোগে অন্তত ৯৭১ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র কয়েক মুহূর্ত পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প দেশটিকে কাঁপিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুটি ভূমিকম্পের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড।
সূত্র: আলজাজিরা
