মূল লেখায় যান
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

মা ও তিন মেয়েকে হত্যা; চাঞ্চল্যকর তথ্য জানাল প্রতিবেশী

প্রতিবেদক:
মা ও তিন মেয়েকে হত্যা; চাঞ্চল্যকর তথ্য জানাল প্রতিবেশী

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক মা ও তার তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। তাদের দাবি, ঘটনার সময় বাসার ভেতরে সন্দেহজনক এক যুবককে দেখে দ্রুত বাড়ির ফটক বাইরে থেকে আটকে দিয়েছিলেন প্রতিবেশী আফরোজা বেগম রানী। তার এই উপস্থিত বুদ্ধির কারণেই অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যেতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) এবং ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফা (১০)। এ ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত হন অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (৩০)।

প্রতিবেশী আফরোজা বেগম রানী জানান, সকালে পাশের বাসা থেকে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। জানালার পাশে গিয়ে শাহিনুর বেগমকে ডাকলেও কোনো সাড়া পাননি। কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতরে এক অচেনা যুবককে দেখতে পান। তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি দ্রুত বাড়ির প্রধান ফটক বাইরে থেকে আটকে দেন এবং আশপাশের লোকজনকে খবর দেন।

পরে স্থানীয়রা ঘরে প্রবেশ করে শাহিনুর বেগম, তার বড় মেয়ে সায়মা ও ছোট মেয়ে শিফার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ইকরাকে। তাকে প্রথমে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলেও পথে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার ভবনের ছাদে উঠে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকার হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের দাবি, অন্তর মজুমদার একসময় একই ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকতেন। প্রায় আট মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যান। তিনি জানতেন, বাড়ির ভাড়া আদায় ও কিছু আর্থিক দায়িত্ব শাহিনুর বেগমের কাছে থাকত। এ কারণে অর্থ কিংবা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

নিহত শাহিনুর বেগমের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ বলেন, তার বোনের কিছু স্বর্ণালংকার ছিল। সেগুলো লুট করতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তিনি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান।

এদিকে নিহত শাহিনুরের ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত বলেন, তার মা বাসার দেখভালের দায়িত্ব পালন করতেন এবং অনেক ভাড়াটিয়া তার কাছেই ভাড়া জমা দিতেন। তাই অর্থ বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে তার সন্দেহ।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত শাহিনুরের ছেলে সিফাত বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।