মূল লেখায় যান
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

ইরানের মুহুর্মুহু হামলায় ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়েছিল মার্কিন সেনারা

প্রতিবেদক:
ইরানের মুহুর্মুহু হামলায় ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়েছিল মার্কিন সেনারা

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি সংঘাতের পথ থেকে সরে এসে আবারও কূটনৈতিক আলোচনার পরিবেশে ফিরেছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ইরানের ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

‘নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন’ নামে পরিচিত এই ঘাঁটিটি মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কার্যালয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অভিযান পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড সেন্টার। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের বাইরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ইরান একাধিক দফায় এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। যদিও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়, তবুও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলায় ঘাঁটির প্রধান কমান্ড হেডকোয়ার্টার, আরও অন্তত এক ডজন ভবন এবং সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি পেন্টাগন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হামলার মাত্রা বাড়ার আগেই অধিকাংশ সেনা ও কর্মকর্তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, অবকাঠামো নয়, সেনাসদস্যদের জীবন রক্ষা করাই ছিল তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

তার ভাষায়, এই কৌশল কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। কারণ, ইরান ৮ হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করলেও পুরো সংঘাতের সময় মাত্র দুটি ঘটনায় মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

ইরানের এ ধরনের হামলা মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ, এতে স্পষ্ট হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনাগুলোর একটিও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। এছাড়া তুলনামূলক কম ব্যয়ে তৈরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে ব্যয়বহুল মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা সম্ভব হয়েছে।

ফলে ইরানের নিকটবর্তী বড় ও স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এক জায়গায় বিপুলসংখ্যক সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের পরিবর্তে বাহিনীকে বিভিন্ন ঘাঁটিতে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগও জোরদার করা হচ্ছে।