মূল লেখায় যান
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ২:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

নরসিংদীতে ছয় মাসে ১০৪১ মাদক কারবারিসহ গ্রেফতার সাড়ে ৫ হাজার

প্রতিবেদক:
নরসিংদীতে ছয় মাসে ১০৪১ মাদক কারবারিসহ গ্রেফতার সাড়ে ৫ হাজার

ঢাকার অদূরে ৬ টি উপজেলা ও ৭টি থানা নিয়ে ১১৪০.৭৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনে গঠিত দেশের ঐতিহ্যবাহী জেলা নরসিংদী । ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে স্থলপথ, রেলপথ ও নদী পথে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জেলার সাথে রয়েছে এ জেলার উন্নততর যোগাযোগ ব্যবস্থা । ফলে এখানে রয়েছে ছোট বড় অসংখ্য শিল্প কারখানা। বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কর্মরতদের ধরে এ জেলায় বসবাসরত লোকের সংখ্যা প্রায়ই ২৮ লক্ষ।

এমন একটি জনবহুল গুরুত্বপূর্ণ জেলার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সার্বিক নিয়ন্ত্রণ রাখতে জেলা পুলিশকে সার্বক্ষণিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি থাকতে হয়। আর এসব বিষয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নরসিংদী পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ্ আল ফারুক। জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রেখে জেলাকে একটি নতুন আঙ্গিকে সাজাতে শান্তিপূর্ণ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন তিনি । পাশাপাশি আইনি সেবা প্রাপ্তিতে সাধারণ মানুষের যেন কোনও প্রকার হয়রানি হতে না হয় সেসব বিষয়ে ও নিয়মিত মনিটরিং করছেন। সেসব কার্যক্রম কীভাবে সম্ভব হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে আমাদের প্রতিনিধি কথা বলেছেন পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সাথে।

পাঠকদের জন্য সেসব কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হল: জেলার আইন-শৃংখলা রক্ষা, অপরাধ দমন, অপরাধীদের গ্রেফতার, কিশোর গ্যাং নির্মূল, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, জড়িতদের আটক, মামলা গ্রহণের বিষয়ে সার্বক্ষনিক নজরদারি, ওয়ারেন্ট ভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার,সড়ক পথে শৃঙ্খলা রক্ষা, অসহায় মানুষের পাশে থেকে জনবান্ধব পুলিশিং গড়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি নজর দিয়েছেন নরসিংদীর বর্তমান পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ্ আল ফারুক৷ তিনি যোগদানের পর থেকেই জেলার যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন । বাড়ানো হয়েছে টহল ও চেকপোস্ট। ফলে জেলার কোথাও না কোথাও প্রতিনিয়ত উদ্ধার হচ্ছে মাদকদ্রব্য। আটক হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী-পাঁচারকারী ও মাদকসেবী। শুধু তাই নয়, চরাঞ্চলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধে নেয়া হয়েছে বিশেষ অভিযান। পুলিশী তৎপরতা তিনি হার্ড লাইনে রেখে জেলা পুলিশকে আধুনিক ষ্ট্যাটেজিতে পরিচালনায় কাজ শুরু করছেন পুলিশ সুপার । ফলে ক্লুলেস অপরাধের ঘটনাগুলোর রহস্য উন্মোচনে, অপরাধী সনাক্ত, গ্রেফতারে ওনার কৌশল ও নির্দেশনা কার্যকর হতে দেখা যাচ্ছে। ফলে ছয় মাসেই পাল্টে যাচ্ছে নরসিংদী জেলা পুলিশের চিত্র।

এ ছাড়া তিনি যোগদানের পর থেকে জেলার ৬ উপজেলার ৭ টি থানার (ওসি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায়ই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তদারকি ও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। পাশাপাশি ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধে জেলার প্রতিটি থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম তিনি নিজেই মনিটরিং করছেন। শুধু তাই নয়, সড়ক দুর্ঘটনা রোধের পাশাপাশি সড়ক ও মহাসড়ক থেকে চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যাপক তৎপড়তা চালাচ্ছে জেলা ট্রাফিক পুলিশ। পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে ভীতি ও নেতিবাচক ধারণা পাল্টে গেছে । ফলে পুলিশি হয়রানি থেকে সাধারণ মানুষের অনেটাই মুক্তি মিলেছে।

বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ্ আল ফারুক তাঁর অফিস কক্ষে নিয়মিত সাধার মানুষের অভিযোগ শুনে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ায় অপরাধীদের উৎসাহে অনেকটাই ভাটা পড়েছে ।

পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,জেলার আইন-শৃঙ্খলা উন্নতির পেছনে মো: আব্দুল্লাহ্ আল ফারুকের মত সৎ, দক্ষ, কর্তব্যপরায়ণ ও নির্ভীক পুলিশ সুপারের কর্মকান্ড সত্যি প্রশংসনীয়। গত ছয় মাসে বিভিন্ন অপরাধে নরসিংদী জেলাতে গ্রেফতার ৫ হাজার ৫ শত ১০ জন। এর মধ্যে ডাকাত ৭৪জন । দস্যু ০৮, অস্ত্রধারী-২৫ জন, মাদক ব্যবসায়ী- ১হাজার ৪৩জন, বিভিন্ন মামলায় তামিল- ২৩শত ৬৯জন ও অন্যান্য অপরাধে গ্রেফতার -১৯৯১ জন। অস্ত্র ২৩টি ও ১৬৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার। ইয়াবা উদ্ধার ৩৪ হাজার ৪ শত ৭৭পিস, গাঁজা ৪শত ৯৪ কেজি।ফেনসিডিল -৬২ বোতল,চোলাই মদ ৬শত ৫৮ লিটার, বিদেশি ৪৮ মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নরসিংদী জেলা পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানা যায় । অপরাধ দমনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য জেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নরসিংদী পুলিশ সুপার। এ দিকে জেলার সচেতন মহল মনে করছেন, তাঁর এ উদ্যোগ চলমান থাকলে পুলিশের হারানো ভাবমুর্তি যেমন ফিরে আসবে তেমনি জেলাবাসীর জীবনেও সুখের সুবাতাস বইবে। ওনার এসব কাজের ধারাবাহিক সাফল্যের সাক্ষী হয়ে থাকবে নরসিংদীর ইতিহাসে।