ঢাবিকে বিশ্বের শীর্ষ ২০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে নিয়ে যেতে উপাচার্যের অঙ্গীকার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাকেন্দ্রিক, উদ্ভাবননির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের শীর্ষ ২০০ একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ, প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
সোমবার (২৯ জুন) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে সভাপতির অভিভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, প্রতিষ্ঠার ১০৫ বছরের গৌরবময় পথচলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অতীতের ঐতিহ্য ও অর্জনের ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়কে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সক্ষম ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ক্রমেই সুদৃঢ় হচ্ছে। টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গত বছরের তুলনায় ৬০০ ধাপ এগিয়ে ৪০১-৬০০ ব্যান্ডে স্থান অর্জন করেছে। একইসঙ্গে কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭-এ টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের সেরা ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অবস্থান ধরে রেখেছে এবং কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৩২তম স্থান লাভ করেছে। উভয় র্যাঙ্কিংয়েই বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং এলসেভিয়ার প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ জন শিক্ষক ও গবেষক স্থান পেয়েছেন, যা বাংলাদেশের যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। সামগ্রিকভাবে এসব অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষের সাক্ষ্য বহন করে।
উপাচার্য তাঁর অভিভাষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৫তম বর্ষকে সামনে রেখে প্রণীত ২০ বছর মেয়াদি ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি একাডেমিক প্ল্যান (২০২৬-২০৪৬)’-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবন, নৈতিক নেতৃত্ব, গবেষণা উৎকর্ষ, শিক্ষা আধুনিকায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে এই পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর সফল বাস্তবায়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে আধুনিক মেডিকেল বায়োসায়েন্স ক্যাম্পাস, আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল এবং অত্যাধুনিক গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পূর্বাচলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত জমিতে নতুন শিক্ষা ও গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অনলাইন একাডেমিক ও প্রশাসনিক সেবা সম্প্রসারণ, স্মার্ট আইডি কার্ড চালু, কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ উন্নয়ন, ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রবর্তন এবং সেবা কার্যক্রমকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা সংস্কৃতি বিকাশে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যালামনাইদের অংশগ্রহণ আরও সুসংগঠিত করে গবেষণা ও শিক্ষার্থী কল্যাণে পৃথক দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রত্যাশাও তিনি ব্যক্ত করেন।
অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বক্তব্য রাখেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১০৩৯ কোটি ০৫ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেট এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ১০৩৩ কোটি ২১ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন।
পরে উপাচার্যের অভিভাষণ এবং কোষাধ্যক্ষের বাজেট বক্তৃতার ওপর সিনেট সদস্যগণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রশাসনিক আধুনিকায়ন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
