ভূরুঙ্গামারীতে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষা কর্মকর্তার টাকা ফেরত
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ভোট কেন্দ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দ অর্থ উত্তোলন করে নিজ অ্যাকাউন্টে রাখার চার মাস পর সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
গত সংসদ নির্বাচনে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র মেরামতের জন্য ২০ লাখ ৬০ হাজার ১ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম ভোটহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরাদ্দ (দু’দফায়) ১ লাখ ৫০ হাজার ও দক্ষিণ চরভূরুঙ্গামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ ১ লাখ টাকা উত্তোলন করে বিদ্যালয় দুটিকে প্রদান না করে সমুদয় টাকা নিজের কাছে রেখে দেন।
শুধু তাই নয়, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের পিইডিপি-৪ প্রকল্প ও স্লিপ প্রকল্পে উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সর্বমোট ১৭ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উক্ত টাকা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে উত্তোলন করে নিজ অ্যাকাউন্টে রাখেন। পরবর্তীতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উৎকোচের বিনিময়ে মাত্র ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেকটিকে ১২ হাজার টাকার চেক (ভ্যাট কর্তন করে) প্রদান করেন। অন্য ৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উৎকোচ প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা টাকা প্রদান থেকে বিরত থাকেন।
এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ গত ১ ও ২ জুলাই বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় প্রকাশিত হলে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের টনক নড়ে। পরে গত ৫ জুলাই ৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে ১০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বিতরণ করেন। অপরদিকে গত ৬ জুলাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরীর উপস্থিতিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ভোট কেন্দ্র মেরামত না করে উত্তোলন করা ২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন।
এ ব্যাপারে ভূরুঙ্গামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল-মাহমুদ জানান, তাঁদের স্লিপের টাকার চেক ৫ জুলাই প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভোটকেন্দ্র) মেরামতের টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী স্লিপের টাকা প্রদান ও ভোটকেন্দ্র মেরামতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
