প্রেমের টানে ঢাকা থেকে পাংশায় পঞ্চম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রেমিক-প্রেমিকা
ভালোবাসার টানে পরিবারকে না জানিয়ে ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রাজবাড়ীর পাংশায় চলে এসেছে পঞ্চম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই অবুঝ প্রেমিক-প্রেমিকা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; পাংশা মডেল থানা পুলিশের সন্দেহের জেরে বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাদের সঙ্গে এসেছে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া তাদের এক বন্ধুও।
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মিরপুরের একটি বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে মোহাম্মদ রাহুল। সে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি হোটেলে কাজ করে। একদিন ওই হোটেলেই খেতে আসে একই এলাকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মাহি। সেখান থেকেই মাহির প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয় রাহুলের। পরবর্তীতে এক বন্ধুর মাধ্যমে মাহিকে প্রেমের প্রস্তাব পাঠায় রাহুল। প্রথম তিনবার প্রত্যাখ্যান করলেও, চতুর্থবারের চেষ্টায় রাজি হয় মাহি। এরপর গত এক বছর ধরে চলছিল তাদের এই প্রেমের সম্পর্ক।
রাহুলের বয়স মাত্র ১১ বছর আর মাহির বয়স মাত্র ১০ বছর। বয়স কম হওয়ায় দুই পরিবারই তাদের এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। এর জের ধরে গত শুক্রবার রাহুল ও মাহি তাদের বন্ধু প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া রোজানের সহায়তায় বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে। এরপর তাদের পরিবার বিভিন্ন স্থানে সন্তানদের খোঁজাখুঁজি করলেও কোনো সন্ধান পায়নি।
রাহুল এবং মাহি নিজেদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে তাদের বন্ধুকে নিয়ে গত সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রাজবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আজ মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি পাংশা সরদার বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছায়। গভীর রাতে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে এত ছোট শিশুদের দেখে টহল পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে পাংশা মডেল থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে প্রেমিক-প্রেমিকা পুলিশের কাছে নিজেদের প্রেমের কথা স্বীকার করে। তারা জানায়, “আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি এবং বিয়ে করতে চাই। পরিবার রাজি না হওয়ায় বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি। আমাদের বিয়ে না দিলে আমরা আত্মহত্যা করব।” তবে তাদের সঙ্গে আসা বন্ধু রোজান জানায়, সে এই পালিয়ে আসার মূল কারণ আগে জানত না। ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার পর সে বিষয়টি বুঝতে পারে।
পরবর্তীতে পুলিশ ওই শিশুদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ভোররাতে সন্দেহজনক অবস্থায় একটি অ্যাম্বুলেন্স থেকে আমরা এই তিন শিশুকে উদ্ধার করি। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাদের মধ্যে দুজন প্রেমিক-প্রেমিকা এবং তারা ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। অভিভাবকরা থানায় আসার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুদের তাদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মূলত অপ্রাপ্ত বয়সে মোবাইল ফোনের অপব্যবহার এবং বাবা-মায়ের অসচেতনতা ও সঠিক নজরদারির অভাবেই কোমলমতি শিশুরা আজ এই বয়সেই এমন বিপথগামী ও অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপের দিকে পা বাড়াচ্ছে। সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের আরও বেশি যত্নশীল ও সচেতন হওয়া জরুরি।
