অধ্যক্ষ আবদুল হাই- এর বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী
হাসি,আনন্দ,স্মৃতিচারণ আর অশ্রুর অপূর্ব এক মেলবন্ধন। একদিকে বহুদিন পর প্রিয় সহপাঠীদের সঙ্গে পুনর্মিলনের উচ্ছ্বাস,অন্যদিকে জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, অভিভাবক ও আলোকবর্তিকা অধ্যক্ষ মো. আবদুল হাই-এর অবসরজনিত বিদায়ের বেদনা। এমন আবেগঘন পরিবেশে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জলিলপুর আলিম মাদরাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ও অধ্যক্ষের বিদায় সংবর্ধনা।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টায় মাদরাসা প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুধীজন এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হলেও বিদায়ের ক্ষণে তা পরিণত হয় অশ্রুসিক্ত আবেগের মিলনমেলায়। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেকেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেননি বক্তব্যের মাঝেই কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে,চোখ ভিজে ওঠে অশ্রুতে। পুরো মিলনায়তনে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জলিলপুর আলিম মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মুদ্দাসির রহমান সাদ। এরপর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আবেগঘন মানপত্র পাঠ করেন মোহাব্বত ফয়সাল। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সুলতান আহমেদ।
শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যক্ষ ছাব্দার হোসাইন এবং নাটিমা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুল জব্বার। এছাড়াও বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সহসভাপতি আশিক আহম্মেদ সিদ্দিক, মহেশপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর ফারুক আহম্মেদ, সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন পলাশ, বিশিষ্ট সমাজসেবক শেখ শাহাজান আলী, মহেশপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সারোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, অধ্যক্ষ আবদুল হাই শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাণ, একজন আদর্শ মানুষ গড়ার কারিগর। তাঁর কঠোর শৃঙ্খলা, সততা, নৈতিকতা, স্নেহ ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে তিনি হাজারো শিক্ষার্থীর জীবন আলোকিত করেছেন। তাঁর হাত ধরেই অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন,একজন আদর্শ শিক্ষক কখনো অবসরে যান না। তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে, আদর্শে ও কর্মে আজীবন বেঁচে থাকেন। অধ্যক্ষ আবদুল হাইয়ের অবদান জলিলপুর আলিম মাদরাসার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন অধ্যক্ষ আবদুল হাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনের সততা, নিষ্ঠা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে অসামান্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় অবসর জীবন কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অধ্যক্ষ আবদুল হাই-কে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও মানপত্র প্রদান করা হয়। বিদায়ের ক্ষণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী,সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসায় বারবার অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি। উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে প্রিয় শিক্ষককে সম্মান জানান এবং তাঁর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করেন।
