মূল লেখায় যান
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

বিমান বহরে যুক্ত হচ্ছে এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ

প্রতিবেদক:
বিমান বহরে যুক্ত হচ্ছে এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হচ্ছে ইউরোপের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের ১০টি নতুন উড়োজাহাজ। সরকারের মিশ্র-বহর (মিক্সড ফ্লিট) নীতির অংশ হিসেবে এসব উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে এবং ২০৩১ সাল থেকে ধাপে ধাপে উড়োজাহাজগুলো বিমানের বহরে যুক্ত হবে। খবর বাসস।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। দাম ও অন্যান্য শর্তাবলিসহ বিস্তারিত তথ্য চুক্তি সইয়ের পর প্রকাশ করা হবে। জাতীয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সরকার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রথমবারের মতো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মিশ্র বহর পরিচালনা করবে। সরকারের মতে, এর ফলে ভবিষ্যতে বহর ব্যবস্থাপনায় আরও বৈচিত্র্য ও নমনীয়তা আসবে।

বাসস জানায়, সম্প্রতি বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পর এয়ারবাসও বাংলাদেশে তাদের প্রস্তাব জোরদার করে। প্রতিষ্ঠানটি চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড বডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারো বডি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। পরে এয়ারবাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড ডেলাহায়ে ঢাকায় এসে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনার পর সরকার ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিশ্বের দুই বৃহৎ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং ও এয়ারবাস—উভয়ের উড়োজাহাজই বিমানের বহরে থাকবে। এটি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি বহর উন্নয়ন কৌশলের অংশ।

সরকার ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে। এর লক্ষ্য জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটিকে আরও আধুনিক করা, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

এদিকে, অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম বাসসকে বলেন, মিশ্র বহর পরিচালনার ফলে রুটভেদে উপযোগী উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন দক্ষতা ও বাণিজ্যিক সক্ষমতা উন্নত হতে পারে। তবে বহর সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে রুট পরিকল্পনা, যাত্রী চাহিদা, পরিচালন ব্যয় এবং লাভজনকতার বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।