মূল লেখায় যান
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কালুখালীতে বসতঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার এইমাত্রঅন্যান্য কালুখালীতে বসতঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হালুয়াঘাটে খাল পুনঃখনন শেষে প্রায় দেড় কোটি টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও এইমাত্রঅন্যান্য হালুয়াঘাটে খাল পুনঃখনন শেষে প্রায় দেড় কোটি টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও জামায়াতের চিঠিতে নয়, স্পিকারের রেফারেন্সেই ব্যবস্থা নেবে: ইসি এইমাত্রঅন্যান্য জামায়াতের চিঠিতে নয়, স্পিকারের রেফারেন্সেই ব্যবস্থা নেবে: ইসি শেখ হাসিনার লাশও বাংলাদেশের মাটি গ্রহণ করবে না: জবি প্রক্টর এইমাত্রঅন্যান্য শেখ হাসিনার লাশও বাংলাদেশের মাটি গ্রহণ করবে না: জবি প্রক্টর রাউজানের শীর্ষ সন্ত্রাসী ধামা ইলিয়াছ গ্রেপ্তার এইমাত্রঅন্যান্য রাউজানের শীর্ষ সন্ত্রাসী ধামা ইলিয়াছ গ্রেপ্তার ‘গুলশানের চামেলি’ দিয়ে ঢাকাই সিনেমায় মধুমিতা সরকার এইমাত্রঅন্যান্য ‘গুলশানের চামেলি’ দিয়ে ঢাকাই সিনেমায় মধুমিতা সরকার চট্টগ্রামে ৭ বছরের শিশুকে হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড এইমাত্রঅন্যান্য চট্টগ্রামে ৭ বছরের শিশুকে হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড নৃগোষ্ঠীদের ন্যায্য অধিকার ও বৈষম্য দূর করতে সরকার কাজ করছে: বিএনপি মহাসচিব এইমাত্রঅন্যান্য নৃগোষ্ঠীদের ন্যায্য অধিকার ও বৈষম্য দূর করতে সরকার কাজ করছে: বিএনপি মহাসচিব
অন্যান্য

নবীগঞ্জে বাঁধ নির্মান করে ৫০ একর ফসলি জমি ও সরকারী প্রাথমিক স্কুল পানি বন্ধি

প্রতিবেদক:
নবীগঞ্জে বাঁধ নির্মান করে ৫০ একর ফসলি জমি ও সরকারী প্রাথমিক স্কুল পানি বন্ধি

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নে ফরিদপুর গ্রামে পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি। প্রায় ৫০ একর ফসলি জমি ও সরকারী প্রাইমারী বিদ্যালয় পানি বন্ধি।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অন্য পক্ষ বাঁধ কেটে দিতে চাইলে। এক পক্ষ বাঁধ নির্মান করে জোর করে পানি বন্ধ করে দিয়েছে। এনিয়ে পাল্টাপাল্টি নিয়ে স্থানীয় ফরিদপুর ও ধর্মনগর গ্রামের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুুহুর্তে সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে। অন্তত তিন বছর ধরে পানি নিষ্কাশন সমস্যার কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয় ফরিদপুর গ্রাবাসীর অভিযোগ, প্রাকৃতিক খাল দখল, ভরাট এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি বের হওয়ার স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কৃষিজমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্ধা সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ডাঃ মিছবা জানান, একসময় গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রাকৃতিক খালগুলো দিয়ে সহজেই অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন ফরিদপুর গ্রামে পানি নিষ্কাশন সমস্যায় দুর্ভোগ হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যক্তি খাল দখল, ভরাট এবং অবৈধ বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানির  স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছেন। ফলে প্রতিবছর বর্ষা এলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে অনেক কৃষক আবাদ করতে পারেন না, আর যারা আবাদ করেন তাদের ফসলও নষ্ট হয়ে যায়।

ফরিদপুর গ্রামের কনা মিয়া ও আব্দুল মুহিত অভিযোগ করেন, সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন কিছু জমি প্রকৃত মালিকরা ব্যবহার না করলেও কিছু ব্যক্তি সেগুলো অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। এই পানি নিস্কাশনের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন তাদের গ্রামের আব্দুস সালাম ও ধর্মনগর গ্রামের পাবেল আহমদ। এই দুইজন জোর করে সরকারী খালের উপর বাঁধ ও পানি নিস্কাশনের ড্রেন বন্ধ করে দিয়েছেন। তাদের ইচ্ছেমতো বাঁধ নির্মাণ করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যার প্রভাব পুরো গ্রামের ৫০ একর জমি নিয়ে জলাবদ্ধতা আজ তিন বছর যাবৎ রয়েছে।

এ অবস্থায় শুধু কৃষিই নয়, গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না এবং খেলাধুলাসহ  স্বাভাবিক সামাজিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, কিছুদিন আগে গ্রামের সচেতন মানুষ উদ্যোগ নিয়ে দুটি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেছিলেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও একই স্থানে ফরিদ পুর গ্রামের আব্দুস সালাম নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করেন। বাঁধ অপসারণের পর সংশ্লিষ্ট দখলদারদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আবারও সেখানে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও জানিয়েছেন তারা।

ফরিদপুর গ্রামের ফুলকাছ মিয়া বলেন, বাঁধের কারনে আমার তিন কেদার জমি প্রতি বছর পাকাল(বাদ) যায়। গ্রামের সবাই মিলে এই বাঁধ গুলো অপসারন করা জরুরি। ফরিদপুর গ্রামের চঞ্চলপাল বলেন, আমি এই বাঁধের জন্য নবীগঞ্জ থানায় মামলা করি। দারোগা সাব এসে তিনটি বাঁধ কেটে দিলে পানি নেমে যায়। কয়েকদিন পরে আবারও প্রভাব শালী পাভের, সালামগংরা বাঁধ নির্মান করেন। এখন বাঁধের জন্য জমির পাশাপাশি আমাদের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী পানি বন্ধি হয়ে পড়েছেন। আমাদের বাড়ি ঘরে পানি উঠে যাচ্ছে, বিষয়টি সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

এব্যাপারে বাঁধ নির্মানকারী আব্দুস সালাম বলেন, আমি বাঁধ দিয়েছে এটা সত্যি। আমার আগে ধর্মনগর গ্রামের পাভেল আহমদ জোর করে সরকারী জায়গায় বাঁধ দিয়ে পানি আটক করে। সে যদি বাঁধ কেটে দেয় আমিও কেটে দিবো। কয়েকদিন আগে আমার বাঁ কাটা হলেও পাভেলের বাঁধ কাটা হয়নি। তাই আমি আবার বাঁধ আবার দিয়েছি।

এব্যাপারে ধর্মনগর গ্রামের পাভেল আহমদ বলেন, আমি বাঁধ দিয়েছি, এই জায়গা দিয়ে পানি এসে আমাদের জমির ফসল ডুবিয়ে দেয়। সরকারী জায়গা সালাম মিয়া বাঁধ দিয়ে রেখেছেন সেটা কেউ প্রতিবাদ করেন না। এ বিষয়ে ফরিদ পুর ও ধর্মনগর গ্রামের মানুষ হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন, নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

এবিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীন বলেন, বিষয়টি আমাকে মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে। লিখিত দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।