২০ বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনেই জীবনযাপন প্রতিবন্ধী যুবকের
জন্মের মাত্র ৪০ দিন পর বাবাকে হারান। এরপর প্রতিবন্ধী হওয়ায় মাত্র ৬ মাস বয়সে তাকে ফেলে রেখে চলে যান মা। এরপর আর কোনো দিন সন্তানের খোঁজ নেননি তিনি। বাবা-মায়ের স্নেহ-ভালোবাসা ছাড়াই দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার রামপুর চতিলা এলাকার আনোয়ার হোসেন (২৮)।
দাদা-দাদির মৃত্যুর পর আরও অসহায় হয়ে পড়েন আনোয়ার। বর্তমানে প্রায় ২০ বছর ধরে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত ভবনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। ভবনটির ছাদ ও দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় অনেক আগেই সেটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে যেকোনো সময় ভবনটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
জানা যায়, আনোয়ারের বাবা আব্দুর রহমান তার জন্মের মাত্র ৪০ দিন পর মারা যান। এরপর মাত্র ৬ মাস বয়সে প্রতিবন্ধী সন্তানকে রেখে চলে যান মা আনোয়ারা বেগম। এরপর আর কখনও ফিরে এসে সন্তানের খোঁজ নেননি। দাদা-দাদির স্নেহে বড় হলেও ১০ বছর আগে দাদির মৃত্যু এবং পরে অসুস্থ দাদার মেয়ের বাড়িতে চলে যাওয়ার পর আনোয়ার একেবারেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। আত্মীয়-স্বজনের কাছেও ঠাঁই না পেয়ে বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবনটিকেই নিজের ঠিকানা বানিয়েছেন। অন্যের দেওয়া একটি তিন চাকার ছোট গাড়ির সাহায্যে চলাচল করেন আনোয়ার। স্থানীয় যুবকরা ও এলাকাবাসী চাঁদা তুলে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনে দেন। সেগুলো দিয়েই কোনোমতে জীবন চলে তার।
প্রতিবন্ধী হলেও ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে নিতে চান না আনোয়ার। তিনি সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ চান।
সট-১: আনোয়ার হোসেন এলাকাবাসীর দাবি, আনোয়ারের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় এবং ছোট একটি ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হলে তিনি নিজের আয়েই জীবনযাপন করতে পারবেন।
ভক্সপপ: স্থানীয় এলাকাবাসী স্থানীয় এক ব্যবসায়ী মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের ছোট দোকানে আনোয়ারকে কাজের সুযোগ দিয়েছেন। দোকানের লাভের একটি অংশ তাকে দেওয়া হয় বলে জানান আনোয়ার।
সট-২: আনোয়ার হোসেন, এলাকাবাসীর সহযোগিতায়, দুমুঠো খেতে পারি, তারাই আমাকে তিন চাকার গাড়ি ঠেলে দোকানে বসিয়ে দিয়ে যায়, বর্তমানে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া অন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পান না আনোয়ার। তাই তার জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান ও ব্যাটারি চালিত হুইল চেয়ার প্রয়োজন, স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
