মূল লেখায় যান
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ১১ লাখ টাকার ঘাটতিতে এবি পার্টি এইমাত্রঅন্যান্য আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ১১ লাখ টাকার ঘাটতিতে এবি পার্টি ২টি খাল খননের উদ্বৃত্ত ১৭ লাখ টাকা কোষাগারে জমা দিলেন ইউএনও এইমাত্রঅন্যান্য ২টি খাল খননের উদ্বৃত্ত ১৭ লাখ টাকা কোষাগারে জমা দিলেন ইউএনও আশুলিয়ায় বিকাশের ২৩৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ২ এইমাত্রঅন্যান্য আশুলিয়ায় বিকাশের ২৩৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ২ ৩ দিনের সফরে ঢাকায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর এইমাত্রঅন্যান্য ৩ দিনের সফরে ঢাকায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর শেরপুরে দুই নদীর ভাঙনে বিলীন ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি এইমাত্রঅন্যান্য শেরপুরে দুই নদীর ভাঙনে বিলীন ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ অফিসার বরখাস্ত এইমাত্রঅন্যান্য পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ অফিসার বরখাস্ত সারজিস আলমের গাড়ী বহরে আবারও হামলা এইমাত্রঅন্যান্য সারজিস আলমের গাড়ী বহরে আবারও হামলা বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান ওসির এইমাত্রঅন্যান্য বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান ওসির
অন্যান্য

গুজব–অপতথ্য প্রচারে ১০ বছর কারাদণ্ড

প্রতিবেদক:
গুজব–অপতথ্য প্রচারে ১০ বছর কারাদণ্ড

তিন মাসের ব্যবধানে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ আবার সংশোধন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন ধারা যুক্ত করে আইনটি আরও কঠোর করা হচ্ছে; একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে শাস্তিও। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, গুজব, অপতথ্য, হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানিকর তথ্য—এ চারটি শব্দকে অপরাধের সংজ্ঞায় এনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে সংশোধিত আইনে। এ ছাড়া আইন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য সংস্থাকে যুক্ত করা হচ্ছে।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে সংশোধিত আইনটি পাস হতে পারে।

সংশোধিত আইনে নতুন একটি ধারা (২৬/ক) যুক্ত করে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি সাইবার পরিসরে গুজব ও অপতথ্য প্রকাশ বা প্রচার করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। কেউ এ ধরনের অপরাধ করলে তিনি অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করবেন বা অনধিক ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

সংশোধিত আইনের খসড়ায় গুজবের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়, গুজব অর্থ এমন কোনো অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্য, সংবাদ বা দাবি, যা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা বা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে অথবা অস্থিরতা তৈরি করার ঝুঁকি থাকে।

অপতথ্যের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, এমন কোনো মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য যা ব্যক্তি, জনসাধারণ, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত, প্রতারিত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ বা প্রচার করা হয়।

জানা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও, অডিও, বিভ্রান্তিকর ছবি দিয়ে অপপ্রচার ঠেকাতে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।

সংশোধিত আইনের ২৫ নম্বর ধারায় নতুন দুটি শব্দ যোগ করা হচ্ছে। মানহানি ও হেয়প্রতিপন্ন–সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড নিয়ে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি কারও মানহানি বা হেয়প্রতিপন্ন করতে কোনো তথ্য অডিও, ভিডিও চিত্র, অডিও-ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য উপায়ে ধারণ বা সম্পাদিত, এআই দিয়ে নির্মিত কোনো তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করেন, তবে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এ অপরাধে ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে বা অনধিক ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

কোনো নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সীদের বিরুদ্ধে মানহানি বা হেয়প্রতিপন্ন করে কিছু প্রচার করলে অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। মানহানির ব্যাখ্যায় দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার কথা বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি, রাজনৈতিক দলের নেতাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের বিরুদ্ধে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এ বাস্তবতায় বিদ্যমান আইন সংশোধন করে নতুন কিছু ধারা যুক্ত করা হচ্ছে।

এর আগে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাপক বিরোধিতার মুখে ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর হয়। এরপর ভিন্নমত দমনে প্রায়ই আইনটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার আইনটি বাতিল করে। পরে তারা ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করে। গত ৩০ এপ্রিল অধ্যাদেশ রহিত করে ‘সাইবার সুরক্ষা বিল-২০২৬’ সংসদে পাস করে। বিলটি পাস হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে আবারও সংশোধন করা হচ্ছে।