বিশ্বকাপকে বিদায় বলার অপেক্ষায় ফুটবলের ১০ মহাতারকা
চলতি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন ফুটবলপ্রেমীদের মনে অন্য এক আবেগও কাজ করছে। কারণ, বর্তমান প্রজন্মের বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি ফুটবলারের জন্য এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। বয়স, সময় এবং ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তারা শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের অসাধারণ অবদানের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকা এমন ১০ তারকাকে নিয়ে এই বিশেষ আয়োজন।
১. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সফল ফুটবলার লিওনেল মেসি। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পরও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেননি তিনি। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলছেন। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৯ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা পারফর্মার। অনেকের মতে, এটিই মেসির শেষ বিশ্বকাপ।
২. লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া)
৪০ বছর বয়সেও মাঠে তরুণদের মতো ছুটে চলছেন লুকা মদ্রিচ। চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়স্ক অ্যাসিস্টদাতার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে এবং ২০২২ সালে তৃতীয় স্থানে নিয়ে যাওয়া এই মিডফিল্ড জাদুকর সম্ভবত শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে খেলছেন।
৩. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক ম্যাচ ও গোলের মালিক এই পর্তুগিজ তারকার একমাত্র অপূর্ণতা বিশ্বকাপ ট্রফি। ৪১ বছর বয়সে এসে এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
৪. ম্যানুয়েল নয়ার (জার্মানি)
আধুনিক ফুটবলে গোলরক্ষকের সংজ্ঞা বদলে দেওয়া ম্যানুয়েল নয়ারের এটি পঞ্চম বিশ্বকাপ। ২০১৪ সালে জার্মানির শিরোপাজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। যদিও এবার জার্মানি আগেভাগেই বিদায় নিয়েছে, তবুও নয়ারের অবদান ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।
৫. নেইমার (ব্রাজিল)
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্নের অন্যতম প্রতীক নেইমার। দীর্ঘদিন চোটের সঙ্গে লড়াই করলেও দেশের জার্সিতে তার আবেগ একটুও কমেনি। বিশ্বকাপে ১৪ ম্যাচে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করা এই ফরোয়ার্ডের সামনে শৈশবের স্বপ্ন পূরণের হয়তো শেষ সুযোগ।
৬. কেভিন ডি ব্রুইন (বেলজিয়াম)
বেলজিয়ামের ‘সোনালি প্রজন্মের’ প্রধান কারিগর কেভিন ডি ব্রুইন। দুর্দান্ত পাসিং ও সৃজনশীলতার জন্য পরিচিত এই মিডফিল্ডার এবার বেলজিয়ামকে বড় সাফল্য এনে দিতে চান। বয়সের কারণে এটিই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ।
৭. ভার্জিল ফন ডাইক (নেদারল্যান্ডস)
নেদারল্যান্ডসের রক্ষণভাগের স্তম্ভ ভার্জিল ফন ডাইক। ২০২২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল ছিল তার সেরা সাফল্য। চলতি আসরে মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে ডাচরা। ৩৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে আগামী বিশ্বকাপে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
৮. মোহাম্মদ সালাহ (মিশর)
মিশরীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা মোহাম্মদ সালাহ। ১৯৩৪ সালের পর বিশ্বকাপে মিশরের প্রথম জয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের হয়ে আরও সাফল্য পাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও বয়সের কারণে এটিই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ।
৯. সন হিউং-মিন (দক্ষিণ কোরিয়া)
দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়দের একজন সন হিউং-মিন। চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই ফরোয়ার্ডের নেতৃত্বে চলতি আসরে বড় কিছু করতে পারেনি কোরিয়া। তবুও দেশের ফুটবল ইতিহাসে তার নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
১০. সাদিও মানে (সেনেগাল)
সেনেগালকে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকাপে তোলার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা সাদিও মানের। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের নেতৃত্বে আফ্রিকার দলটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্বকাপে সেনেগালের স্বপ্নের অন্যতম প্রতীক হয়ে থাকা মানের জন্যও এটি শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে।
বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরই নতুন নায়কের জন্ম দেয়। তবে একই সঙ্গে বিদায় জানায় কিছু কিংবদন্তিকেও। মেসি, রোনালদো, মদ্রিচ, নেইমার কিংবা সালাহদের মতো তারকারা হয়তো আর কখনো বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরবেন না। তাই চলতি আসরের প্রতিটি ম্যাচই তাদের ভক্তদের জন্য হয়ে উঠেছে আবেগ আর স্মৃতির এক অনন্য উপলক্ষ।
