যে কারণে খামেনির শেষ বিদায়ে অংশ নেয়নি ১৩ দেশ
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে অন্তত ১৩টি দেশ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি বলে দাবি করেছে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি। এ তথ্য প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল চাপের মুখে পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পূর্ব এশিয়ার অন্তত ১৩টি দেশ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠায়নি।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, অনুপস্থিত দেশগুলোর কয়েকটি সরকার পরে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তেহরানকে তাদের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন সূত্রের বরাতে বলা হয়, বিদেশি প্রতিনিধিদলগুলো যাতে স্মরণসভায় অংশ নিতে তেহরান সফর না করে, সে লক্ষ্যে গত পাঁচ দিন ধরে মার্কিন কর্মকর্তারা ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছেন।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৬ জুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি গোপন নির্দেশনা জারি করেন। ওই নির্দেশনায় জানানো হয়, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ‘অবন্ধুসুলভ আচরণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি এতে অংশ নেওয়া দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।
প্রেস টিভির ভাষ্য অনুযায়ী, দুই আরব কূটনীতিকের বরাতে জানা যায়, মার্কো রুবিও ব্যক্তিগতভাবে অন্তত পাঁচটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে আফ্রিকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকে সতর্ক করে জানান, অনুষ্ঠানে অংশ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহায়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তবে এসব কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া, ভারত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও পাকিস্তানসহ শতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং প্রয়াত আলী খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
