রেমিট্যান্স সংগ্রহে আবারও শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক
২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে দেশে। এই অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের ৩০.৩০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৭.৩ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধির মধ্যেই রেমিট্যান্স সংগ্রহে আবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। অন্যদিকে, বড় চমক দেখিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং তৃতীয় অবস্থান দখল করেছে ব্র্যাক ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে ইসলামী ব্যাংক একাই ৬.৮৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও প্রবাসী আয় সংগ্রহে ব্যাংকটি তার শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবার ৪.১০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। আর ২.৯৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক।
গত অর্থবছরের তুলনায় দুই ব্যাংকেরই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি ব্যাংক ২.১১ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে চতুর্থ এবং ব্র্যাক ব্যাংক ২.০৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে ছিল। একই সময়ে ইসলামী ব্যাংক ৪.৯৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে শীর্ষে ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, রপ্তানি আয়ে চাপ থাকলেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বাণিজ্য ঘাটতি এবং চলতি হিসাবের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে আগের অর্থবছরের ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় এবার রেমিট্যান্স বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে।
ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেন জানান, গত অর্থবছরে ব্যাংকটি ৮৩ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে, যা দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ১৯.৩৫ শতাংশ। তিনি বলেন, প্রবাসীদের আস্থা, বিস্তৃত আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ হাউস নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী শাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার কারণে এ সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অনলাইন ব্যাংকিং, সেলফিন ও এমক্যাশের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক রেমিট্যান্স গ্রহণের সুবিধার পাশাপাশি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাবে ব্যাংকটির ২০ জন প্রতিনিধি প্রবাসীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ও হিসাব বিভাগের প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি রেমিট্যান্স সংগ্রহ ব্যাংকটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি জানান, প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা সার, জ্বালানি, বিদ্যুৎসহ প্রয়োজনীয় সরকারি আমদানির অর্থায়নে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এতে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে কৃষি ব্যাংক।
রেমিট্যান্স সংগ্রহের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংক, যার সংগ্রহ ২.৫০ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক (২.৪৮ বিলিয়ন ডলার) ও জনতা ব্যাংক (২.০৮ বিলিয়ন ডলার)। এছাড়া সিটি ব্যাংক ১.১২ বিলিয়ন ডলার, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ১.০৯ বিলিয়ন ডলার, ইস্টার্ন ব্যাংক ১.০৭ বিলিয়ন ডলার এবং পূবালী ব্যাংক ১.০৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে। অন্যান্য ব্যাংক মিলিয়ে মোট সংগ্রহ হয়েছে ১০.২২ বিলিয়ন ডলার।
