ব্যবহৃত আইফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি
কম দামে আইফোন কেনার সুযোগ থাকায় অনেকেই ব্যবহৃত (সেকেন্ড-হ্যান্ড) আইফোনের দিকে ঝুঁকছেন। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতে সাশ্রয়ী মনে হলেও পুরোনো আইফোন কেনার সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে বাড়তি খরচের কারণ হতে পারে। সফটওয়্যার আপডেটের সীমাবদ্ধতা, দুর্বল ব্যাটারি, ওয়ারেন্টির অভাব এবং ব্যয়বহুল মেরামতের মতো বিভিন্ন ঝুঁকি থাকতে পারে ব্যবহৃত ডিভাইসে।
সফটওয়্যার আপডেটের সীমাবদ্ধতা
ব্যবহৃত আইফোন কেনার ক্ষেত্রে বড় একটি বিষয় হলো সফটওয়্যার আপডেট পাওয়ার সময়সীমা। পুরোনো মডেলগুলো সাধারণত তুলনামূলক কম সময় নতুন আইওএস আপডেটের সুবিধা পায়। ফলে ভবিষ্যতের নতুন ফিচার ও প্রযুক্তিগত সুবিধা থেকে ব্যবহারকারীরা বঞ্চিত হতে পারেন।
উদাহরণ হিসেবে, স্ট্যান্ডার্ড আইফোন ১৫ মডেলে অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) কিছু ফিচার সমর্থন করে না। যদিও অ্যাপল সাধারণত একটি আইফোনকে প্রায় সাত বছর পর্যন্ত বড় সফটওয়্যার আপডেট দিয়ে থাকে, তবে তা মডেল ও হার্ডওয়্যার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
পুরোনো হার্ডওয়্যারের সীমাবদ্ধতা
ব্যবহৃত আইফোনে স্বাভাবিকভাবেই আগের প্রজন্মের হার্ডওয়্যার থাকে। ফলে নতুন মডেলের মতো দ্রুত পারফরম্যান্স, উন্নত ক্যামেরা, বেশি স্টোরেজ, শক্তিশালী প্রসেসর, উন্নত ডিসপ্লে কিংবা কার্যকর তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পাওয়া যায় না।
বর্তমান সময়ে অ্যাপ, গেম ও মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের চাহিদা বেড়েছে। তাই পুরোনো মডেলের সীমিত স্টোরেজ ও কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যার অনেক ব্যবহারকারীর জন্য অসুবিধার কারণ হতে পারে।
ওয়ারেন্টি ও অ্যাপলকেয়ার প্লাসের সুবিধা নাও মিলতে পারে
বেশিরভাগ ব্যবহৃত আইফোন বিক্রি হয় অ্যাপলের মূল এক বছরের ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর। অনেক ক্ষেত্রেই অ্যাপলকেয়ার প্লাস সুবিধা নেওয়ার সুযোগও আর থাকে না, কারণ এটি সাধারণত নতুন ডিভাইস কেনার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যোগ করা যায়।
ফলে ব্যাটারি পরিবর্তন, ডিসপ্লে নষ্ট হওয়া বা অন্য কোনো হার্ডওয়্যার সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে নিজ খরচে মেরামত করাতে হতে পারে।
লুকিয়ে থাকতে পারে বিভিন্ন সমস্যা
বিশ্বস্ত রিফারবিশড বিক্রেতার কাছ থেকে ব্যবহৃত আইফোন কেনা তুলনামূলক নিরাপদ হলেও অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা ব্যক্তিগত বিক্রেতার কাছ থেকে কেনার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে।
কিছু ক্ষেত্রে ফোনে নকল বা অননুমোদিত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা থাকতে পারে। এছাড়া আগের মেরামতের ইতিহাস, পানিতে ক্ষতি, লুকানো হার্ডওয়্যার সমস্যা বা বাহ্যিক ক্ষতির তথ্য গোপন করার ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই কেনার আগে ফোনের সিরিয়াল নম্বর, ওয়ারেন্টি অবস্থা এবং ডিভাইসের সত্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাটারির স্বাস্থ্য যাচাই করা প্রয়োজন
ব্যবহৃত আইফোনের অন্যতম সাধারণ সমস্যা হলো ব্যাটারির সক্ষমতা কমে যাওয়া। সময়ের সঙ্গে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা হ্রাস পায়, যার ফলে ঘন ঘন চার্জ দেওয়া, পারফরম্যান্স কমে যাওয়া কিংবা হঠাৎ ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পরবর্তীতে ব্যাটারি পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সেই খরচও ফোনের মোট ক্রয়মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হবে।
তাহলে কি ব্যবহৃত আইফোন কেনা উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটের মধ্যে সম্ভব হলে তুলনামূলক নতুন মডেলের আইফোন কেনাই ভালো। তবে ব্যবহৃত আইফোন কিনতে চাইলে অবশ্যই বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কেনা উচিত।
কেনার আগে ব্যাটারির স্বাস্থ্য, ওয়ারেন্টির অবস্থা, ফোনের মেরামতের ইতিহাস এবং ভবিষ্যতে আইওএস আপডেট পাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করা জরুরি। এসব বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে ব্যবহৃত আইফোন কেনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
