প্রাণ ফিরছে কাঁচামাটিয়া নদীর
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাঁচামাটিয়া নদী দীর্ঘদিনের কচুরিপানার জঞ্জাল থেকে মুক্ত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে নদীপাড়ের মানুষের জীবনে।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নদী পরিষ্কার হওয়ায় মশা, বিষাক্ত পোকামাকড় ও সরীসৃপের উপদ্রব কমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত কাঁচামাটিয়া নদী একসময় এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। নদীপথে ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহন করা হতো। নদীর মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন জেলেরা, আর কৃষকরা সেচের কাজে ব্যবহার করতেন নদীর পানি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে দখল, দূষণ, অবৈধ স্থাপনা, বর্জ্য ফেলা ও নাব্যতা সংকটে নদীটি প্রায় মৃত হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর দুই পাড় দখল, নদীর বুকে চর জেগে ওঠা এবং হাট-বাজারের বর্জ্য ফেলার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে ঈশ্বরগঞ্জ ব্রিজ থেকে পশ্চিমে থানা পর্যন্ত নদীর বিস্তীর্ণ অংশ কচুরিপানায় ঢেকে গিয়ে মশার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। এতে নদীতীরবর্তী দেড় হাজারের বেশি পরিবার দুর্ভোগে পড়ে। নদী রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ প্রকাশ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন করে আসছিল স্থানীয় সুশীল সমাজ ও নাগরিকরা।
গত ৭ মে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ জুন কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অপসারণ কাজ সম্পন্ন হয়।
নদীপাড়ের বাসিন্দা মঞ্জুরুল হক ভুঁইয়া বলেন, “কচুরিপানা সরানোর পর মশা ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব অনেক কমেছে।” বাবুল ভুঁইয়া বলেন, “নদীটি খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।”
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান জানান, সংসদ সদস্যের সম্মতিক্রমে উপজেলা পরিষদের এডিপি ফান্ডের অর্থায়নে জনস্বার্থে এই কচুরিপানা অপসারণ করা হয়েছে। নদীটি খনন করার জন্য জাতীয় সংসদ সদস্য মহোদয়কে অবহিত করা হলে তিনি নদীটি খননের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
