মূল লেখায় যান
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ২:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ভারী বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা এইমাত্রঅন্যান্য ভারী বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা এইমাত্রঅন্যান্য ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা নড়াইলে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা এইমাত্রঅন্যান্য নড়াইলে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা বন্দরে জাহাজে ভয়াবহ হামলা, ৪ ভারতীয় নিহত এইমাত্রঅন্যান্য বন্দরে জাহাজে ভয়াবহ হামলা, ৪ ভারতীয় নিহত ইইউবির নামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ, বিভ্রান্তিকর তথ্য সংশোধনের আহ্বান এইমাত্রঅন্যান্য ইইউবির নামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ, বিভ্রান্তিকর তথ্য সংশোধনের আহ্বান ফাইনালের পর আর্জেন্টিনার আচরণ নিয়ে তদন্তে নামছে ফিফা এইমাত্রঅন্যান্য ফাইনালের পর আর্জেন্টিনার আচরণ নিয়ে তদন্তে নামছে ফিফা স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সমালোচকরা: ইরান এইমাত্রঅন্যান্য স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সমালোচকরা: ইরান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রদ্রির কণ্ঠে মেসি বন্দনা, ‘তিনি ফুটবলের প্রতীক’ এইমাত্রঅন্যান্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রদ্রির কণ্ঠে মেসি বন্দনা, ‘তিনি ফুটবলের প্রতীক’
অন্যান্য

স্মার্ট ফোনের আসক্তি কাটিয়ে সুস্থ থাকুন ৬ উপায়ে

প্রতিবেদক:
স্মার্ট ফোনের আসক্তি কাটিয়ে সুস্থ থাকুন ৬ উপায়ে

স্মার্টফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতের ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত অনেকেই ফোনের স্ক্রিনে ডুবে থাকেন। কাজ, পড়াশোনা, কেনাকাটা, বিনোদন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ—সবকিছুই এখন স্মার্টফোননির্ভর। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রাখলে মনোযোগ কমে যায়, ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়, চোখে চাপ পড়ে এবং উদ্বেগ ও মানসিক ক্লান্তিও বাড়তে পারে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধ না করে বরং সচেতনভাবে ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

১. ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নেবেন না

অনেকেরই অভ্যাস সকালে চোখ খুলেই ফোনে নোটিফিকেশন, ফেসবুক বা খবর দেখা। এর পরিবর্তে দিনের প্রথম ২০ থেকে ৩০ মিনিট নিজের জন্য রাখুন। হালকা ব্যায়াম, প্রার্থনা, ধ্যান বা এক কাপ চা নিয়ে নিরিবিলি সময় কাটালে মন সতেজ থাকে এবং দিনটাও ইতিবাচকভাবে শুরু হয়।

২. নির্দিষ্ট সময় পরপর স্ক্রিন থেকে বিরতি নিন

একটানা দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করলে চোখ ও মস্তিষ্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর অন্তত ৫ মিনিট স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে রাখুন। চাইলে জানালার বাইরে তাকাতে পারেন বা কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। এতে চোখের ক্লান্তি কমবে এবং মনোযোগও বাড়বে।

৩. প্রয়োজন ছাড়া নোটিফিকেশন চালু রাখবেন না

প্রতিনিয়ত নোটিফিকেশনের শব্দ বা পপ-আপ মনোযোগ নষ্ট করে। তাই যেসব অ্যাপ নিয়মিত প্রয়োজন হয় না, সেগুলোর নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। এতে অকারণে ফোন হাতে নেওয়ার প্রবণতা কমবে এবং কাজে মনোযোগ দেওয়া সহজ হবে।

৪. ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহারে বিরতি দিন

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, ট্যাব বা ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ রাখা উচিত। স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো ঘুমের স্বাভাবিক চক্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এর পরিবর্তে বই পড়া, হালকা গান শোনা বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৫. বাস্তব জীবনের সম্পর্ককে সময় দিন

অনলাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটানোর বদলে পরিবার, বন্ধু বা কাছের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটান। মুখোমুখি কথা বলা, একসঙ্গে খাওয়া বা বাইরে ঘুরতে যাওয়া মানসিক চাপ কমাতে এবং সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করে।

৬. প্রতিদিন কিছু সময় ‘ফোনমুক্ত’ থাকুন

বাড়ির কিছু জায়গাকে ‘নো-ফোন জোন’ হিসেবে নির্ধারণ করতে পারেন। যেমন—ডাইনিং টেবিল, শোবার ঘর বা পারিবারিক আড্ডার সময় ফোন ব্যবহার না করার নিয়ম করুন। পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট সম্পূর্ণ ফোন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। এতে ধীরে ধীরে স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে।

প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নানা সমস্যারও জন্ম দিচ্ছে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী স্মার্টফোন ব্যবহার, নির্দিষ্ট সময় স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা এবং বাস্তব জীবনের কর্মকাণ্ডে বেশি সময় দেওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল আসক্তি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ছোট ছোট সচেতন অভ্যাসই আপনাকে এনে দিতে পারে আরও সুস্থ, স্বাভাবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন।