রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন? ফখরুল-ইউনূসসহ জোর আলোচনায় যারা
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। সে অনুযায়ী আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা শেষে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
দলীয় আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খান। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নামও আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে বিএনপির বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম। রাজনৈতিক নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে—এমন গুঞ্জনও বিভিন্ন মহলে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপি কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী ও দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম পরিস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের মতে, রাষ্ট্রপতি এমন একজন হওয়া উচিত, যিনি দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ, দলের দুঃসময়ের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা এবং দলের আদর্শের প্রতি অনুগত।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীও জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দলীয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গঠনতন্ত্র ও সংবিধান অনুসরণ করেই যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ মূলত সাংবিধানিক হলেও রাজনৈতিক সংকট কিংবা নির্বাচনকালীন সময়ে এ পদটির গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। ফলে বিএনপি শেষ পর্যন্ত দলীয় জ্যেষ্ঠ কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেয়, নাকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার কথা বিবেচনায় ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়—সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর।
