সরকারি চাকরিজীবীদের আগস্টে মিলতে পারে ৮ দিনের ছুটি
চলতি আগস্ট মাসে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, মাসজুড়ে দুই দফায় টানা চার দিন করে মোট আট দিনের ছুটি কাটানো সম্ভব হতে পারে। তবে এজন্য দুই ক্ষেত্রেই কর্মীদের এক দিন করে নৈমিত্তিক বা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে হবে।
সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ৫ আগস্ট (বুধবার) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। পরদিন ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সরকারি অফিস খোলা থাকলেও কেউ যদি ওই দিন নৈমিত্তিক বা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারেন, তাহলে ৫ আগস্টের সরকারি ছুটির সঙ্গে ৭ ও ৮ আগস্টের (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে।
এছাড়া আগস্টের শেষ সপ্তাহেও একই ধরনের আরেকটি সুযোগ রয়েছে। ২৬ আগস্ট (বুধবার) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। তবে ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ ছুটির চূড়ান্ত তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। এরপর ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) কেউ নৈমিত্তিক বা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারলে ২৮ ও ২৯ আগস্টের (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হয়ে আবারও টানা চার দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।
অর্থাৎ, আগস্ট মাসে দুই দফায় এক দিন করে নৈমিত্তিক ছুটি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীরা মোট আট দিনের দীর্ঘ অবকাশ কাটানোর সুযোগ পাবেন। এ কারণে অনেকেই আগেভাগেই পারিবারিক ভ্রমণ, গ্রামের বাড়ি যাওয়া কিংবা ব্যক্তিগত কাজের পরিকল্পনা শুরু করেছেন।
তবে এই সুবিধা সবার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হবে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী নৈমিত্তিক বা ঐচ্ছিক ছুটি অনুমোদিত হলেই কেবল কর্মীরা টানা ছুটির সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এছাড়া অফিসের জরুরি কার্যক্রম বা প্রশাসনিক প্রয়োজনের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ছুটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্তও হতে পারে।
উল্লেখ্য, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি থাকে। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এ উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করে থাকে। তবে হাসপাতাল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ছুটির সুযোগ স্বাভাবিকভাবেই সীমিত থাকবে।
আগস্ট মাসের এই দুই দফা দীর্ঘ ছুটির সুযোগ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কর্মব্যস্ততার মাঝেও কিছুটা বিশ্রাম, পারিবারিক সময় কাটানো এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ এনে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
