মূল লেখায় যান
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারপতি এইমাত্রঅন্যান্য ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারপতি পঞ্চগড়ে সনাতনীদের বিক্ষোভ সংবাদ সম্মেলন এইমাত্রঅন্যান্য পঞ্চগড়ে সনাতনীদের বিক্ষোভ সংবাদ সম্মেলন ১১৮ জাতের নতুন ধানের বীজ সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য ১১৮ জাতের নতুন ধানের বীজ সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী রাজবাড়ীতে সাড়ে ১১ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার এইমাত্রঅন্যান্য রাজবাড়ীতে সাড়ে ১১ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার গাজা ছাড়বে কি ইসরায়েল? চাপে নেতানিয়াহু এইমাত্রঅন্যান্য গাজা ছাড়বে কি ইসরায়েল? চাপে নেতানিয়াহু তারেক রহমানের নেতৃত্বে পূর্ণ আস্থা যুক্তরাষ্ট্রের : সার্জিও গর এইমাত্রঅন্যান্য তারেক রহমানের নেতৃত্বে পূর্ণ আস্থা যুক্তরাষ্ট্রের : সার্জিও গর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৭২ এইমাত্রঅন্যান্য ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৭২ চলনবিলে পর্যটক হয়রানি ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ এইমাত্রঅন্যান্য চলনবিলে পর্যটক হয়রানি ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
অন্যান্য

অভিযুক্ত হাসিনাসহ ৫০ জন, ৪৯ জনের বিরুদ্ধে সত্যতা মেলেনি

প্রতিবেদক:
অভিযুক্ত হাসিনাসহ ৫০ জন, ৪৯ জনের বিরুদ্ধে সত্যতা মেলেনি

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন ঢাকার মিরপুর-১০ এর গোলচত্বরে এলাকায় রাকিবুল হোসেন (২৯) গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলাম গত ১৩ জুলাই আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন। তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শেষে সার্বিক পর্যালোচনায় ৫০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি। এছাড়া ঘটনার সময় মিরপুর এলাকায় ছিলেন না। কারও নাম অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এজাহারভুক্ত করা হয়েছে, এমন ৪৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রভুক্ত অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কামাল আহমেদ মজুমদার, ইলিয়াস মোল্লা, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এসএম মান্নান কচি, এখলাস উদ্দিন মোল্লা, সাবেক কাউন্সিলর কাসেম মোল্লা।

অব্যাহতি পাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি ও আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক এমপি কামরুল আরেফিন, পাবনা-৪ আসনের সাবেক এমপি গালিবুর রহমান শরিফ, আলোক হেলথকেয়ার লিমিটেডের এমডি মো. লোকমান হোসেন, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ইলিয়াস আহমেদ তালুকদার।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালের ১২ জুলাই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করার পর ২০২৪ সালের ৫ জুন উচ্চ আদালত সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করে। যার ফলে কোটা পদ্ধতি নিয়ে পুনরায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তে কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুন করে সূচনা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ২৪ সালের জুলাই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরস্ত্র সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে আন্দোলন শুরু করে। 

এই আন্দোলন রাজধানী ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে যায়। এই কোটাবিরোধী আন্দোলনকে দমানোর জন্য তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা নিরস্ত্র, কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের ওপর দলবদ্ধভাবে তাদের ন্যায্য আন্দোলনকে প্রতিহত করার জন্য বিভিন্ন অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি সরাসরি না মেনে নানান কৌশল অবলম্বন করেন এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সামনে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করতে থাকেন। ফলশ্রুতিতে এই আন্দোলন বিপ্লবে রূপ নেয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এজাহারনামীয় আসামি শেখ হাসিনার সঙ্গে অভিযোগপত্রভুক্ত অপর আসামিরা গোপন বৈঠক করে ছাত্র জনতার আন্দোলনকে দমন করার জন্য আন্দোলন প্রতিহত করার নির্দেশনা প্রদান করেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতারা এবং পুলিশ অফিসাররা ছাত্র জনতার আন্দোলনকে দমন করার জন্য সারা বাংলাদেশ তথা মিরপুরের ছাত্র জনতাকে দমন করার জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। আসামিরা ষড়যন্ত্র করে সারা বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার যৌক্তিক আন্দোলনকে সহিংসভাবে থামানোর লক্ষ্যে সচেষ্ট ছিল।

তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, তদন্তকালে ভিকটিমের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের আদেশে হরিনাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিয়মমাফিক লাশ উত্তোলনের জন্য ভিকটিমের কবরস্থানে যান। পরিবারের সদস্যসহ এলাকার লোকজনের আপত্তির কারণে কবর থেকে ভিকটিমের লাশ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।

মামলার বিবরণ থেকে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন রাকিবুল। ওইদিন রাত ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের একটি মিছিল মিরপুর-১০ এর গোলচত্বরে পৌঁছালে আসামিদের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা গুলি বর্ষণ শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে অজ্ঞাত আসামির ছোড়া বুলেটে রাকিবুল হোসেন (২৯) এর গলার বাম পার্শ্বে গুলিবিদ্ধ হন। সেখানে উপস্থিত লোকজন তাকে নিকটস্থ ড. আজমল হসপিটালে নিলে চিকিৎসক রাত ৯টা ১৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এদিকে, ছেলের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে মামলার বাদী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক্ক ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় আসেন এবং রাত ১টার সময় মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়ন ও ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে ভিকটিমের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরদিন ২০ জুলাই ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু থানার বাসুদেবপুর পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করেন। এ ঘটনায় ২০ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন আবু বক্কর।

মামলার বাদী আবু বক্করের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভিকটিম তার দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে। তিনি মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত এমআইএসটি ইউনিভার্সিটি থেকে ২০২১ সালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং মেকানিকালে গ্রাজুয়েশন শেষ করে সুপার জুটমিলের বনানী হেড অফিসে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন। মিরপুর-১১ এ একটি মেসে থাকতো। ওইদিন রাতে তার বন্ধুরা তাকে কল দিয়ে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ দেন। তিনি বলেন, মামলার প্রতিবেদন দাখিলের বিষয় সম্পর্কে অবগত নন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়। আমি ন্যায়বিচার চাই।