মূল লেখায় যান
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সিএমপি'র পাঁচ থানার ওসি পদে রদবদল এইমাত্রঅন্যান্য সিএমপি'র পাঁচ থানার ওসি পদে রদবদল ইসরায়েল পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস করলেই অঞ্চলে শান্তি আসবে এইমাত্রঅন্যান্য ইসরায়েল পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস করলেই অঞ্চলে শান্তি আসবে রেসিং ট্র্যাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, কেমন আছেন অজিত কুমার এইমাত্রঅন্যান্য রেসিং ট্র্যাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, কেমন আছেন অজিত কুমার ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বন্ধ হচ্ছে যুক্তরাজ্য-সমর্থিত জলবায়ু প্রকল্প এইমাত্রঅন্যান্য বাংলাদেশে বন্ধ হচ্ছে যুক্তরাজ্য-সমর্থিত জলবায়ু প্রকল্প সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙার দুর্ঘটনায় নিহত ১০ শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এইমাত্রঅন্যান্য সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙার দুর্ঘটনায় নিহত ১০ শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান ইরানের রাস্তায় হিজাব ছেড়ে খোলা চুলে নারীরা, বেকায়দায় সরকার এইমাত্রঅন্যান্য ইরানের রাস্তায় হিজাব ছেড়ে খোলা চুলে নারীরা, বেকায়দায় সরকার ২ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন, পরিপত্র জারি এইমাত্রঅন্যান্য ২ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন, পরিপত্র জারি
অন্যান্য

সাদ্দাম-ইনানকে ফোনে হামলার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের

প্রতিবেদক:
সাদ্দাম-ইনানকে ফোনে হামলার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে দাবি করেছে প্রসিকিউশন। এ দাবির সমর্থনে একটি ফোনালাপের কল রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ কল রেকর্ডটি দাখিল করা হয়। জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্কের দ্বিতীয় দিনে প্রসিকিউশন এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে।

প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, কল রেকর্ডটি ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ওবায়দুল কাদের এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানের মধ্যে হওয়া কথোপকথনের।

ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত রেকর্ডে ওবায়দুল কাদেরকে সাদ্দামের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “এদের মারো না কেন?” জবাবে সাদ্দাম বলেন, “পুলিশ মুখোমুখি হতে নিষেধ করেছে।” প্রসিকিউশনের দাবি, এ ধরনের বক্তব্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় হতে উৎসাহিত করেছিল।

গত ৪ আগস্ট এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল পরিকল্পিত, সুসংগঠিত এবং দেশব্যাপী পরিচালিত একটি ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’। তার দাবি, আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।

প্রসিকিউটর আরও দাবি করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ বলে আখ্যায়িত করার পর ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগকে মাঠে নামার নির্দেশ দেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এসব ঘটনায় জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে বহু মানুষ নিহত হন বলে প্রসিকিউশন উল্লেখ করে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করা, বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।

এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আসামি করা হয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে। ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক।