‘ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন, সাকিব নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ’
সাকিব আল হাসান ভালো খেলোয়াড় হলেও মানুষ হিসেবে তিনি ‘নষ্ট ও পচে যাওয়া’—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাকিব আল হাসান দেশে ফিরলে তার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সাকিব দেশে ফিরলে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় থাকবেন বলে মনে করেন না।
সাকিবের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন। উনি একজন নষ্ট, পচে যাওয়া মানুষ। যে মানুষ হাসিনার সঙ্গে অ্যালাইনড হয় এবং এখনও অ্যালাইনড থাকে, তার বক্তব্যও তো ৫ তারিখে এসেছে।’
সাকিব দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার মুখোমুখি হলে সরকার তাকে নিরাপত্তা দেবে বলেও জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সাকিব বাংলাদেশে এলে মামলা, আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন। বিমানবন্দরে নামার পর কেউ তাকে মব করে ক্ষতি করবে—এমন আশঙ্কা সরকারের নেই।
তিনি আরও বলেন, সাকিব দেশে এলে নিরাপত্তার মধ্যেই তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও আইনি বিষয়গুলো মোকাবিলা করবেন। আইনগত প্রক্রিয়া মেনে তিনি দেশে ফিরলে কোনো সমস্যা দেখছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাকিবের বিভিন্ন বক্তব্যকে সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, যারা এখনও শেখ হাসিনার সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে অ্যালাইনড থেকে কথা বলছেন, তাদের বক্তব্যকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় তার প্রাপ্য অধিকারগুলো নিশ্চিত করা হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা সবাইকে মেনে নিতে হবে।
দেশে ভবিষ্যতে আর কোনো ‘মাফিয়া রেজিম’ দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার মতো কোনো ‘ফ্যাসিস্ট মাফিয়া রেজিম’ আর দেশে দেখতে চান না এবং ভবিষ্যতেও তা হতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সবচেয়ে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিও তার নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না। সাকিব আল হাসান কিংবা শেখ হাসিনা—যেই হোন না কেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
