পঞ্চগড়ে ভুয়া লিভার পরীক্ষার রিপোর্ট দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, প্যাথলজি বন্ধের দাবি
পঞ্চগড়ে স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স না নিয়ে লিভার পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে লিভার পরীক্ষা করতে আসা রোগী প্রতারণার শিকার হয়ে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে আসা রোগী ও স্থানীয়রা ক্ষোভে ফুঁসছেন, সেই সঙ্গে প্যাথলজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ অভিযোগ পেয়ে প্যাথলজিটির বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ঘটনাটি পঞ্চগড় জেলা শহরের পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের আনোয়ার প্লাজার মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সাইদুজ্জামান রেজা নামে এক রোগীর লিভার পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট রোববার লিভার রোগে আক্রান্ত রোগী সাইদুজ্জামান রেজা পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালে লিভার পরীক্ষা করান, যেখানে তার লিভার এসজিপিটি পরীক্ষায় ১২৭ ইউএল সনাক্ত হয়। লিভারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে আবারও এসজিপিটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। ওই দিনই সাইদুজ্জামান (৪৪) মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এসজিপিটি পরীক্ষার জন্য রক্ত দিয়ে আবারও পরীক্ষা করান, সেখানে এসজিপিটি রিপোর্টে মাত্র ২৬.৭ ইউএল পাওয়া যায়। এতে সাইদুজ্জামান ডায়াবেটিক হাসপাতালের এসজিপিটি রিপোর্টের সঙ্গে মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্টের ব্যবধান অনেক বেশি হওয়ায় মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে তার লিভারের সঠিক অবস্থা জানতে আবারও চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। এ সময় চিকিৎসক আবারও এসজিপিটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন এবং পরদিন গত ১০ আগস্ট সোমবার সঠিক পরীক্ষার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তৃতীয়বারের মতো এসজিপিটি পরীক্ষা করান। আধুনিক সদর হাসপাতালের এসজিপিটি পরীক্ষার রিপোর্টে ১২১ ইউএল পাওয়া যায়। এ নিয়ে তার সাথে প্রতারণা হয়েছে মর্মে সাইদুজ্জামান রেজা মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন বরাবর মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে লিখিত দেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে মেডিকেয়ার সেন্টারের পরিচালক সৈয়দা নাসরিন মিনুর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে সাংবাদিকের কণ্ঠ শুনে উত্তেজিত হয়ে যান। এ সময় বিচারপতি মনসুর এবং স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের আত্মীয় বলে পরিচয় দেন। সেই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। পরে তিনি জানান, তার ডায়াগনস্টিকের দেওয়া রিপোর্টে কোনো ভুল নেই বলে দাবি করেন।
এদিকে সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, লিভার প্রদাহ সনাক্তের জন্য ফুল অটোমেটিক এবং সেমি অটো মেশিন ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে মেডিকেয়ার সেন্টারে এখনো পুরোনো সেমি অটো মেশিন দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে লিভার রোগী সাইদুজ্জামানের ডায়াবেটিক সমিতি এবং মেডিকেয়ার সেন্টারে কর্মরত টেকনোলজিস্ট একই ব্যক্তি আবুল বাশার। তিনি একজন ডিপ্লোমাধারী টেকনোলজিস্ট। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে একই টেকনোলজিস্ট কেন একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে দুই ধরনের রিপোর্ট দেবেন? জানা গেছে, আবুল বাশারের টেকনোলজিস্ট রিপোর্ট নিয়ে চলতি বছরেই নানা গড়মিলের অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে পঞ্চগড় মকবুলার ডায়াবেটিক সমিতি থেকে সাময়িক বহিষ্কার হন। বর্তমানে পঞ্চগড়ের ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক জগতে একক আধিপত্য বিস্তার করছেন আবুল বাশার।
পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগকারী লিভারের রোগীর পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল সহ তিন প্রতিষ্ঠানে এসজিপিটি পরীক্ষায় মেডিকেয়ার সেন্টারের এসজিপিটি পরীক্ষা রিপোর্টটি অসামঞ্জস্য মনে করছি।
