নেত্রকোণায় মোবাইল কোর্টের বিশেষ অভিযান, জরিমানা ও কারাদণ্ড
জনস্বার্থ রক্ষা, বাজার মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেত্রকোণার বিভিন্ন উপজেলায় মোবাইল কোর্টের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৃথক এসব অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে অর্থদণ্ড, বালু জব্দ ও একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নেত্রকোণা সদর উপজেলার চল্লিশা এলাকায় ‘তন্ময় অ্যান্ড তাহমিদ অটোমেটিক রাইস মিলে’ চালের মোড়কীকরণে বাধ্যতামূলক পাটজাত ব্যাগ ব্যবহার না করায় ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ অনুযায়ী এ দণ্ড দেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তোফায়েল আহমেদ।
কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের শামপুর হিলফুল ফুজুল দাখিল মাদরাসা ও মৌতল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৫ হাজার ৭০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে। জব্দ করা বালু স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয়। এছাড়া স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ লঙ্ঘনের দায়ে একটি মামলায় ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন কলমাকান্দার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফ।
কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিত্যপুর বাজারে ভাউচার ছাড়া সার বিক্রি এবং বিতরণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগে এক বিসিআইসি সার ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী।
অন্যদিকে, একই উপজেলার গণ্ডা ইউনিয়নের বীরমাইঝাটি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজা ও মাদক সেবনের উপকরণসহ একজনকে আটক করা হয়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনা করেন কেন্দুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী।
জেলা খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছে, জনস্বার্থ সংরক্ষণ, বাজার মনিটরিং, মাদক ও অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধসহ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
