মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মানুষ নামাজে এসে বলে গ্যাস নাই, গ্যাস দেন: জামায়াত আমির এইমাত্রঅন্যান্য মানুষ নামাজে এসে বলে গ্যাস নাই, গ্যাস দেন: জামায়াত আমির ভারতে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিলেন সোনম ওয়াংচুক এইমাত্রঅন্যান্য ভারতে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিলেন সোনম ওয়াংচুক ঢাকার চলমান শরীরের অ্যানাটমি: কুন্তল বাড়ৈ- এর প্রদর্শনী এইমাত্রঅন্যান্য ঢাকার চলমান শরীরের অ্যানাটমি: কুন্তল বাড়ৈ- এর প্রদর্শনী নওগাঁর পত্নীতলায় পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ ২ জন আটক এইমাত্রঅন্যান্য নওগাঁর পত্নীতলায় পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ ২ জন আটক সরকারের ছয় মাসে মোটামুটি সব লক্ষ্যই পূরণ হয়েছে: রিজভী এইমাত্রঅন্যান্য সরকারের ছয় মাসে মোটামুটি সব লক্ষ্যই পূরণ হয়েছে: রিজভী আফগানিস্তানে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ২৪ লাখ মেয়ে এইমাত্রঅন্যান্য আফগানিস্তানে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ২৪ লাখ মেয়ে পে স্কেল বাস্তবায়নের খসড়া চূড়ান্ত, কোন গ্রেডে বেতন কত? এইমাত্রঅন্যান্য পে স্কেল বাস্তবায়নের খসড়া চূড়ান্ত, কোন গ্রেডে বেতন কত? রোনালদো-জর্জিনার বিয়ের আর্থিক চুক্তি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য এইমাত্রঅন্যান্য রোনালদো-জর্জিনার বিয়ের আর্থিক চুক্তি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অন্যান্য

যমুনার গ্রাসে জনপদ: ভাঙনরোধের দাবিতে শাহজাদপুরে মানববন্ধন

প্রতিবেদক:
যমুনার গ্রাসে জনপদ: ভাঙনরোধের দাবিতে শাহজাদপুরে মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের কুরসি ও ধীতপুর গ্রামের মানুষের চোখে এখন শুধু আতঙ্ক। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে তারা দেখছেন, একটু একটু করে যমুনার গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের বসতভিটা, ফসলের মাঠ, গাছপালা, এমনকি জীবনের শেষ সম্বলটুকুও। গত দুই সপ্তাহেই যমুনা নদীর ভয়াাবহ ভাঙনে দুই শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। কেউ পলিথিনের ছাউনির নিচে, আবার কেউ মাছ ধরার জাল দিয়ে ঘিরে রাখা জরাজীর্ণ ঘরে আশ্রয় নিয়েছে।

ভাঙনরোধে দ্রুত বালুভর্তি বস্তা ফেলার দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুরসি বাজার এলাকায় নদীর পাড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মানুষের কণ্ঠে ছিল একটাই দাবি অবিলম্বে ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে কুরসি বাজার এলাকায় ভাঙ্গণের পাড়ে দাড়িয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। এ বিক্ষোভ শেষে ভাঙ্গণরোধে বস্তা ডাম্পিংয়ের দাবী জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, জিন্নাহ মন্ডল, আব্দুল মালেক, আব্দুস সামাদ, ফিটার সরদার, লষ্কর আলী, আব্দুল মান্নান, মহির উদ্দিন, নীল চান প্রামানিক প্রমুখ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, ধীতপুর, কুরসি ও বারপাখিয়া এবং গালা ইউনিয়নের মোহনপুর ও হাতকোড়া গ্রামে ভাঙন শুরু হয়। গত তিন মাসে শত শত বাড়িঘরের পাশাপাশি প্রায় দুই হাজার বিঘা আবাদি জমি নদীতে তলিয়ে গেছে। একসময় যে জমিতে ধান, পাট, সরিষা, বাদাম, তিল, গম, ভুট্টা ও বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন হতো, আজ সেখানে শুধু নদীর উত্তাল স্রোত। কৃষকদের অনেকেই কয়েক মাসের ব্যবধানে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

ধীতপুর গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা আন্না খাতুন (রুমা) এখন এক শিশু কন্যাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাবার বাড়িটিও কয়েকদিন আগে ভাঙনের মুখে পড়ায় ঘরটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন তিনি মা ও শিশুসন্তানকে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত, জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন। ঘরটির এক পাশে কোনো বেড়া নেই। কুকুর, বিড়াল ও শিয়ালের হাত থেকে বাঁচতে মাছ ধরার জাল দিয়ে ঘরটি ঘিরে রাখা হয়েছে। অন্য পাশের পাটকাঠির বেড়াও পচে গেছে। মাথার ওপরের চাল নুইয়ে পড়ছে। তারপরও যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা নেই তাদের।

কুরসি গ্রামের কৃষক ইয়াসিন মোল্লার কণ্ঠেও হতাশার সুর। তিনি জানান, যমুনার ভাঙনে তার আট বিঘা জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। সেই জমিতে ভুট্টা, ধান, সরিষা ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে তিনি স্বচ্ছল জীবনযাপন করতেন। এখন তিনি প্রায় নিঃস্ব। শুধু বাড়িঘর ও কৃষিজমিই নয়, ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে গেছে দুটি মসজিদ-মাদ্রাসা, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি অফিস ভবন। ধীতপুর-কুরসি এলাকার গরুর হাট নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় কৃষিপণ্য ও গবাদিপশু বিক্রিতেও দেখা দিয়েছে চরম সংকট।

স্থানীয়দের দাবি, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাঁশের কাঠামো তৈরি করে বালুভর্তি জিওটিউব বস্তা ফেলা হলে ভাঙন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে এবং পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে স্থানীয় মানুষের প্রশ্ন, শুধু ত্রাণ দিয়ে কি সব সমস্যার সমাধান হবে? যেসব মানুষ নিজেদের চোখের সামনে বাড়িঘর, জমিজমা ও জীবনের সঞ্চয় নদীতে হারিয়ে ফেলেছেন, তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে?

যমুনার ভাঙনে শুধু মাটি ভাঙে না, এটি মানুষের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও জীবিকার ভিত্তিও ভেঙে দেয়। তাই এলাকাবাসীর দাবি, আর কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, এবার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় কুরসি ও ধীতপুরের মতো আরও অনেক গ্রাাম হয়তো মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন জানান, ভাঙ্গণ এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া ভাঙ্গণরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণের চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। অসহায় ক্ষতিগ্রস্থদের পূণর্বাসনেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মখলেছুর রহমান জানান, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নটি যমুনা নদীর চরাঞ্চল এলাকা হওয়ায় সেখানে আমাদের কোনো প্রকল্প নেই। ফলে ষেখানে আমাদের কোনো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন প্রকল্প পাওয়া গেলে সেখানে অবশ্যই কাজ করা হবে।