মূল লেখায় যান
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ এইমাত্রঅন্যান্য খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ বাউফলে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর, ব্যস্ত কৃষকরা এইমাত্রঅন্যান্য বাউফলে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর, ব্যস্ত কৃষকরা ২ বছরের শিশুকে রাস্তায় ফেলে পালিয়েছে মা, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও এইমাত্রঅন্যান্য ২ বছরের শিশুকে রাস্তায় ফেলে পালিয়েছে মা, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও রাষ্ট্রপতি হওয়ায় মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা এইমাত্রঅন্যান্য রাষ্ট্রপতি হওয়ায় মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা বগুড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় বিজিবি সদস্য নিহত এইমাত্রঅন্যান্য বগুড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় বিজিবি সদস্য নিহত সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘উদয়পদ্ম’ চারা রোপণ করলেন রাষ্ট্রপতি এইমাত্রঅন্যান্য সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘উদয়পদ্ম’ চারা রোপণ করলেন রাষ্ট্রপতি সোমালিয়ায় জলদস্যুদের হাতে জিম্মি ৬ ভারতীয় নাবিক এইমাত্রঅন্যান্য সোমালিয়ায় জলদস্যুদের হাতে জিম্মি ৬ ভারতীয় নাবিক বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল করল মার্কিন আদালত এইমাত্রঅন্যান্য বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল করল মার্কিন আদালত
অন্যান্য

বাউফলে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর, ব্যস্ত কৃষকরা

প্রতিবেদক:
বাউফলে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর, ব্যস্ত কৃষকরা

বর্ষার বৃষ্টিতে মাঠে জমেছে পর্যাপ্ত পানি। কাদামাটিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে কৃষিজমি। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকায় পুরোদমে চলছে আমন মৌসুমের জমি প্রস্তুতের কাজ। পটুয়াখালীর বাউফলে চলতি আমন মৌসুমে ৩৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উপজেলা কৃষি অফিস।

১৫টি ইউনিয়নের মাঠজুড়ে ট্রাক্টরের গর্জন, কৃষকদের নিরলস পরিশ্রম আর কিষানিদের সহযোগিতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কেউ জমি চাষ দিচ্ছেন, কেউ মই দিয়ে সমান করছেন, আবার কেউ আমনের চারা রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ বছর আমনের আবাদ নিয়ে তাঁরা আশাবাদী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চারা রোপণ শেষ হবে বলে জানান তাঁরা।

স্থানীয় কৃষক ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় কৃষকদের কর্মব্যস্ততা, যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। কেউ জমি চাষ করছেন, কেউ ব্যস্ত আগাছা পরিষ্কার ও জমি প্রস্তুতের কাজে। চলতি মৌসুমে দেশি জাতের ধানের পাশাপাশি ব্রি ধান-৫২, ৭৮, ৯৭ ও ১০৩, বিআর-২৩ এবং বিনা ধান-৭, ১৭ ও ২৬ জাতের ধান চাষ করছেন কৃষকরা। পাশাপাশি স্থানীয় উচ্চফলনশীল (উফশি) জাতের ধান, লাল মোটা, সাদা মোটা ও কাজলশাইল ধানেরও আবাদ করা হচ্ছে।

তবে শ্রমিক সংকট কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় শ্রমিক না পাওয়ায় অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজেরাই চারা রোপণের কাজ করবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন সময় বেশি লাগছে, অন্যদিকে শ্রম ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে বলে জানান তাঁরা।

উপজেলার বগা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জালাল রাজ্জাক ও শহিদ বলেন, “এহন কৃষিকাজে অনেক পরিবর্তন আইছে। আগের তুলনায় ক্ষ্যাত (জমি) প্রস্তুত করতে সময় কম লাগে। আমরা আশা করি, ঠিক সময়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ করতে পারমু। সময়মতো চারা লাগাইতে পারলে ধানও ঠিক সময়ে কাটতে পারমু। তাই ভালো ফলনের আশায় আছি।”

কালিশুরী ইউনিয়নের কৃষক আবু জয়নাল ও মোসারেফ হোসেন বলেন, “দুই জৈষ্ঠ জমি রোপণ করতে দুইজন শ্রমিকের তিন বেলা খাবারসহ মজুরি দিতে হয় প্রায় দুই হাজার টাকা। দুইজন শ্রমিক মিলে দিনে দেড় থেকে কখনো দুই জৈষ্ঠ পর্যন্ত জমি রোপণ করতে পারেন।”

গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, ইব্রাহিম ও বারেক হাওলাদার বলেছেন, আমন মৌসুমকে কেন্দ্র করে শুধু কৃষকরাই নন, কৃষিশ্রমিক, ট্রাক্টর ও কৃষিযন্ত্রচালক, পরিবহন শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। ফলে মৌসুমজুড়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে এবং স্থানীয় বাজারেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়ে।

কৃষকদের আশা, মৌসুমের বাকি সময় আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আমনের ভালো ফলন হবে। এতে মাঠ ভরে উঠবে সোনালি ধানে, কৃষকদের পরিশ্রম সার্থক হবে এবং তাঁদের মুখে ফিরবে হাসি। ভালো ফলনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন জানান, চলতি আমন মৌসুমে বাউফল উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে মোট ৩৫ হাজার ২০০ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আবাদ সম্পন্ন হলে এ মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

তিনি বলেন, “আমরা সরাসরি মাঠ পরিদর্শন, উঠান বৈঠক করে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলছি। চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন আবাদ নিশ্চিত করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ বছর আমনের ভালো ফলন হবে বলে আমরা আশা করছি।”