স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করলেন নাহিদ ইসলাম
সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে মশকরা করেছেন- এমন অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। স্পিকারের এ আচরণকে পক্ষপাতদুষ্ট ও অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ ও ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ পাসের প্রতিবাদে অধিবেশন বর্জন করে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। বিরোধী দলীয় নেতারা এ ঘটনাকে সংসদের ইতিহাসে ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও স্পিকার তাকে কথা বলার অনুমতি দেননি। উল্টো বিষয়টি নিয়ে তিনি মশকরা করেছেন। স্পিকারের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার অভিযোগ, বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই সরকার তাড়াহুড়ো করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ উত্থাপন ও পাস করেছে। প্রস্তাবিত আইন দুটিতে স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ রাখা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র নজিবুর রহমান। তিনি দাবি করেন, বিলটি কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থি। আইনমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসলামী বিধান সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকায় বিষয়টি সংসদে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
নজিবুর রহমান বলেন, সংসদের স্পিকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু স্পিকার সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রণয়নের পরিবর্তে সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আইনগুলোকে আরও দুর্বল করে পাস করেছে।
পাস হওয়া আইনগুলোকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে নজিবুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর ফলে মানুষের মানবাধিকার আরও সংকুচিত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে গুম ও হত্যার মতো ঘটনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তার দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করে সরকার আবারও আগের ধারাতেই দেশ পরিচালনা করছে।
