জুলাই অভ্যুত্থানকে কটাক্ষ: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষক বরখাস্ত
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কটাক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, জুলাই আন্দোলন নিয়ে অধ্যাপক ওয়াহেদ চৌধুরীর একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের জুলাইয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগটি আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে নতুন একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এদিকে দর্শন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওয়াসিমকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাহসির হাসানকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সাবেক শেখ হাসিনা হলের সামনে নৌকা প্রতীক ভাঙাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কোরবান আলীর গায়ে হাত তোলার অভিযোগে আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফসানা এনায়েত এমিকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও তার সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পরে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন আফসানা এনায়েত এমি। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তার স্থায়ী বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে তাকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথম তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। অভিযোগের বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে যাচাই করতে নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
