মূল লেখায় যান
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বাঁধনের ওপর হামলার পরও থামেনি বিদ্বেষ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুনো উল্লাস এইমাত্রঅন্যান্য বাঁধনের ওপর হামলার পরও থামেনি বিদ্বেষ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুনো উল্লাস ক্রসফায়ারে ২ হত্যা, হাসানাত আবদুল্লাহসহ ৪ আসামির ফাঁসি দাবি এইমাত্রঅন্যান্য ক্রসফায়ারে ২ হত্যা, হাসানাত আবদুল্লাহসহ ৪ আসামির ফাঁসি দাবি রেনোয়া জাদুঘর থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের শিল্পকর্ম চুরি এইমাত্রঅন্যান্য রেনোয়া জাদুঘর থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের শিল্পকর্ম চুরি অশ্লীল ভাষায় ব্যক্তিগত গালিগালাজ আইনত অপরাধ: রিজভী এইমাত্রঅন্যান্য অশ্লীল ভাষায় ব্যক্তিগত গালিগালাজ আইনত অপরাধ: রিজভী জাতীয় নৃত্য প্রতিযোগিতা ২০২৬: 'সেরার সেরা' আর জেড রংধনু এইমাত্রঅন্যান্য জাতীয় নৃত্য প্রতিযোগিতা ২০২৬: 'সেরার সেরা' আর জেড রংধনু কৃষিমন্ত্রীর মা আমেনা বেগম ইন্তেকাল করেছেন এইমাত্রঅন্যান্য কৃষিমন্ত্রীর মা আমেনা বেগম ইন্তেকাল করেছেন সাভারে আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ১ এইমাত্রঅন্যান্য সাভারে আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ১ বিএনপিকে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ ও দলীয়করণ বন্ধের আহ্বান এনসিপির এইমাত্রঅন্যান্য বিএনপিকে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ ও দলীয়করণ বন্ধের আহ্বান এনসিপির
অন্যান্য

নিরপরাধ জলিলের ২০ দিনের কারাভোগ, ভুল গ্রেপ্তারে ওসিকে কোর্টে তলব

প্রতিবেদক:
নিরপরাধ জলিলের ২০ দিনের কারাভোগ, ভুল গ্রেপ্তারে ওসিকে কোর্টে তলব

পটুয়াখালীতে মামলার আসামি না হয়েও ২০ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে মো. জলিল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে। মামলার প্রকৃত আসামি ও গ্রেপ্তার হওয়া জলিলের নাম ও বাবার নাম একই হওয়ায় পরিচয় যাচাইয়ে ভুল করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে দুজনের মায়ের নাম ও গ্রামের নাম ভিন্ন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলী আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক জলিল হাওলাদারের জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার বাদীকে পরবর্তী শুনানির দিন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের দাবিতে ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেন ২০২৩ সালে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া একটি চেক ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ব্যাংক থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়।

ওই মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট মহিপুর থানা পুলিশ জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে। পরোয়ানায় থাকা আসামির সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ও বাবার নাম মিলে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তবে পরবর্তীতে যাচাই করে জানা যায়, মামলার প্রকৃত আসামি ও গ্রেপ্তার হওয়া জলিল হাওলাদার একই ব্যক্তি নন। দুজনের নাম ও বাবার নাম একই হলেও মায়ের নাম ও গ্রামের নাম আলাদা। ফলে পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে মামলার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা এক ব্যক্তিকে ২০ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে।

জলিলের জামাতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাঁর শ্বশুর একজন সাধারণ জেলে। প্রকৃত আসামির সঙ্গে নাম ও বাবার নাম মিলে যাওয়ায় তাকে ভুলভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মায়ের নাম ও গ্রামের নাম যাচাই করা হলে এ ভুল হতো না।

পটুয়াখালী জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক এপিপি মো. হুমায়ুন কবির বাদশা বলেন, মামলার প্রকৃত আসামি প্রবাসে থাকেন। কিন্তু নাম ও পরিচয়ে সাদৃশ্য থাকায় পুলিশ তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে জলিলকে জামিন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মহিপুর থানার ওসিকে আগামী ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আসামি গ্রেপ্তারের আগে নামের পাশাপাশি বাবার নাম, মায়ের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য পরিচয় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। এতে নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি ও কারাভোগের মতো ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় মায়ের নাম ও অন্যান্য পূর্ণাঙ্গ পরিচয় না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে এ ভুল হয়েছে। বিষয়টি জানার পর জলিলের জামিনের জন্য সুপারিশ করা হয়। পরে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভুল এড়াতে আসামির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য পরোয়ানায় উল্লেখ করার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, প্রকৃত আসামির নাম ও বাবার নাম একই হওয়ায় ভুলবশত তাকে আটক করা হয়েছে। পরোয়ানায় মায়ের নাম ও মোবাইল নম্বর না থাকায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। এজন্য পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।