‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন ক্যাম্পাস’ গড়তে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে চায় ঢাবি ছাত্রদল, প্রশাসনের সহযোগিতার আশ্বাস
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন ক্যাম্পাস’ গড়তে স্বেচ্ছাশ্রমের আগ্রহ পর্যন্ত দেখিয়েছে সংগঠনটি। এদিকে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করে ছাত্রদল।
সভায় ছাত্রদল নেতারা ক্যাম্পাসের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা, সবুজায়ন, ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা এবং অপরিকল্পিত ও অনুমোদনবিহীন স্থাপনা অপসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এছাড়া সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা বিবেচনায় ২০০টি ডাস্টবিন সরবরাহে সম্মত হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমোদন সাপেক্ষে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে তারা এগিয়ে যেতে চান, বলে প্রস্তাব তোলেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
সেই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে বছরব্যাপী ও টেকসই কর্মসূচিতে রূপ দিতে প্রয়োজন অনুযায়ী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন ছাত্রদল। আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী ‘ক্লিন ডে’ কর্মসূচি পরিচালনার কথা জানান তারা।
উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ছাত্রদলের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। ২০০টি ডাস্টবিন স্থাপনের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন এবং সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুসারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করবে। সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ কার্যক্রমকে টেকসই করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি জানান, আগামী ৩ অক্টোবর ছাত্রদলের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অংশ নেবে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে যানজট ও রাস্তা দখল করে থাকা বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা বা দোকান ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি জানান।
ক্যাম্পাসের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ ও সবুজায়নের অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ক্যাম্পাসে মশক নিধন কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্রদলের প্রস্তাব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং আবাসিক এলাকাগুলোতেও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে।
স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ বা মনুমেন্ট স্থাপনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালা ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। স্থাপনার ধরন, প্রয়োজনীয় স্থান, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া রয়েছে। এর বাইরে কোনো স্থাপনা নির্মিত হয়ে থাকলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে।
এছাড়া ওই মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনশী শামস উদ্দিন আহম্মদ এবং ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
