খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হলে লিফট স্থাপনের দাবি শিক্ষার্থীদের
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় তলা বিশিষ্ট বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রহুল আমিন হল ও বিজয়-২৪ হলে লিফট ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন সিঁড়ি বেয়ে ছয় তলা পর্যন্ত ওঠানামা করতে গিয়ে শারীরিক ক্লান্তি ও সময়ের অপচয় হওয়ায় দ্রুত লিফট স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছয় তলা বিশিষ্ট এই হলগুলোতে ওঠানামা করা তাদের জন্য প্রতিদিনের এক মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তীব্র গরমের মধ্যে ক্লাস শেষে ক্লান্ত শরীরে ওপরের তলায় ওঠা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রহুল আমিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. নাঈম বিশ্বাস বলেন, একবার নিচে নামলে আর পঞ্চম তলায় উঠতে ইচ্ছা করে না। জরুরি প্রয়োজনেও সিঁড়ি ব্যবহারের বিড়ম্বনায় অনেক সময় নিচে নামতে অনীহা কাজ করে। আমরা দ্রুত লিফটের ব্যবস্থা চাই।
নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা (ইউআরপি) ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী দেবার্গ সাহা বলেন, ভবনটি ছয় তলা করার সময় প্রশাসনের উচিত ছিল লিফটের ব্যবস্থা রাখা। পরিকল্পনার অভাবেই আজ শিক্ষার্থীরা এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। দিনে অন্তত ৪-৫ বার সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা অত্যন্ত কষ্টকর।
বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সুইটি দে বলেন, ভারী ব্যাগ বা ল্যাগেজ নিয়ে ছয় তলায় ওঠা খুবই কঠিন। অসুস্থ অবস্থায় বা জরুরি প্রয়োজনে সিঁড়ি ছাড়া কোনো বিকল্প না থাকায় লিফট এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রহুল আমিন হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, হলে লিফটের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দ্রুত লিফট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুনুর রশীদ খান বলেন, লিফট ছাড়া ছয় তলা ভবন নির্মাণ করাটা বিস্ময়কর। তবে হল দুটিতে লিফট যে প্রয়োজন, তা নিঃসন্দেহে সত্য। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাজেটে লিফট স্থাপন করা সম্ভব নয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত নতুন বাজেট বরাদ্দের আবেদন জানানো হবে।
