রাগের বশে মেসেজে তিনবার তালাক লিখলে কি তালাক হয়ে যায়?
এক প্রশ্নকারী জানতে চান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার সময় স্ত্রী রাগের বশে স্বামীকে তালাক দিতে বলেন। কিন্তু স্বামী তালাক দিতে চাননি। পরে স্ত্রীর জোরাজুরিতে রাগ কমানোর উদ্দেশ্যে স্বামী মেসেজে তিনবার ‘তালাক’ শব্দটি লেখেন। তাঁর দাবি, তালাক দেওয়ার কোনো নিয়ত তাঁর ছিল না। কিন্তু স্ত্রী বলছেন, এতে তালাক হয়ে গেছে এবং তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ। এমন পরিস্থিতিতে শরিয়তের দৃষ্টিতে তালাক কার্যকর হবে কি না?
এ বিষয়ে ঢাকার মুহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ফতোয়া বিভাগের নায়েবে মুফতি তাওহীদুল ইসলাম বলেন, তালাকের সরীহ বা স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করলে শুধু নিয়ত না থাকার কারণে তালাক বাতিল হয় না। একইভাবে রাগের অবস্থায় তালাকের শব্দ উচ্চারণ বা লিখলেও তা কার্যকর হতে পারে।
তিনি বলেন, স্বামী যদি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মেসেজে স্পষ্টভাবে তালাকের কথা লিখে পাঠান, তাহলে তালাক সংঘটিত হয়। একইভাবে একাধিকবার তালাকের শব্দ লিখলে তা একাধিক তালাক হিসেবে গণ্য হতে পারে।
সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনার ক্ষেত্রে স্বামী যদি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মেসেজে স্পষ্টভাবে ‘তালাক’ শব্দ তিনবার লিখে পাঠিয়ে থাকেন, তাহলে শুধু ‘তালাক দেওয়ার নিয়ত ছিল না’ বা ‘রাগ কমানোর জন্য লিখেছি’—এমন বক্তব্যের কারণে তালাক বাতিল হবে না। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী একই সঙ্গে তিনবার তালাক দিলে তিন তালাক সংঘটিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
তবে তালাক কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে শুধু ‘তালাক’ শব্দ লেখা হয়েছে কি না, সেটিই একমাত্র বিষয় নয়। মেসেজে ঠিক কী লেখা হয়েছিল, কাকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছিল, সেটি স্ত্রীকে পাঠানো হয়েছিল কি না এবং লেখার সময়কার পরিস্থিতি কী ছিল—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
ফতোয়া বিভাগের ওই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তালাকের ক্ষেত্রে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তালাকের শব্দের ইযাফত বা সম্পর্ক স্থাপন থাকা প্রয়োজন। এটি সব সময় নাম ধরে বলতেই হবে এমন নয়; প্রসঙ্গ, কথোপকথন ও পরিস্থিতি থেকেও স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করা বোঝা যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে স্ত্রীকে ‘তোমাকে তালাক’, ‘তুমি তালাকপ্রাপ্ত’ বা তাঁর নাম উল্লেখ করে তালাক দেওয়ার কথা বলা হলে তা স্পষ্ট ইযাফত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ফতোয়া-সংক্রান্ত গ্রন্থ আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়্যা, রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়ায়ে শামি) এবং ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া-তে তালাকের লিখিত রূপ, নিয়ত এবং স্ত্রীকে তালাকের সঙ্গে সম্পর্কিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
তবে এটি বাস্তব দাম্পত্য জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত একটি বিষয়। তাই মেসেজে ব্যবহৃত হুবহু শব্দ, মেসেজ পাঠানোর বিষয়টি এবং পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট যাচাই না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট মেসেজসহ স্থানীয় নির্ভরযোগ্য মুফতির কাছে সরাসরি বিষয়টি উপস্থাপন করে চূড়ান্ত ফতোয়া নেওয়া প্রয়োজন।
