মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নিপীড়িত মানুষের পক্ষে লড়তে আইন পেশায় ফিরব: ড. নয়ন বাঙালি এইমাত্রঅন্যান্য নিপীড়িত মানুষের পক্ষে লড়তে আইন পেশায় ফিরব: ড. নয়ন বাঙালি নতুন করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি আইআরজিসির এইমাত্রঅন্যান্য নতুন করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি আইআরজিসির মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে বিএনপিতে কারও স্থান নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে বিএনপিতে কারও স্থান নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী আরও ২০ বাংলাদেশির শাস্তি কী, জানায়নি সৌদি সরকার এইমাত্রঅন্যান্য আরও ২০ বাংলাদেশির শাস্তি কী, জানায়নি সৌদি সরকার আগামী ৫ দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া, জানাল অধিদপ্তর এইমাত্রঅন্যান্য আগামী ৫ দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া, জানাল অধিদপ্তর মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর এইমাত্রঅন্যান্য মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গভীর রাতে সাংবাদিকের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, হামলা-লুটপাট এইমাত্রঅন্যান্য গভীর রাতে সাংবাদিকের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, হামলা-লুটপাট শ্যামনগরের জেলেখালীতে ভাটার দাদনের টাকার জেরে ছেলের অপরাধে মাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ এইমাত্রঅন্যান্য শ্যামনগরের জেলেখালীতে ভাটার দাদনের টাকার জেরে ছেলের অপরাধে মাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ
অন্যান্য

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি

প্রতিবেদক:
আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি

সময়ের পরিক্রমায় ঢেঁকি আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। আধুনিক রাইস ও ফ্লাওয়ার মিলের দাপটে গ্রাম থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শত বছরের এই ঐতিহ্য। সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে ঢেঁকিছাঁটা চাল, লোকজ গান আর নবান্নের সেই প্রাণবন্ত স্মৃতিও।

এক সময় ধান থেকে চাল তৈরির অন্যতম মাধ্যম ছিল ঢেঁকি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে নতুন ধান ঘরে তোলার পর ঢেঁকিতে ধান ভানার ব্যস্ততা শুরু হতো। পরিবারের বৌ-ঝিরা পালাক্রমে ঢেঁকিতে ধান ভানতেন। ঢেঁকির ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলত গল্প, হাসি-ঠাট্টা আর গান। কাজের ক্লান্তিও যেন আনন্দের কাছে হার মানতো। নতুন ধানের মৌসুম মানেই ছিল নবান্নের আয়োজন। ঢেঁকিতে ধান ভেনে তৈরি করা হতো আটা ও চালের গুঁড়া। সেই গুঁড়া দিয়ে বানানো হতো নানা ধরনের পিঠা-পুলি।

বাড়িতে বাড়িতে বসত পিঠা তৈরির ধুম। তৈরি হতো পায়েশসহ নানা মুখরোচক খাবার। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠত বাড়ির আঙিনা। একসময় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ঢেঁকি থাকলেও এখন দু-একটি বাড়িতে পুরনো ঢেঁকি চোখে পড়ে। সেগুলোর অধিকাংশই আর নিয়মিত ব্যবহার হয় না। নতুন প্রজন্মের অনেকেই ঢেঁকি দেখেছে শুধু গল্পে, ছবিতে কিংবা প্রবীণদের স্মৃতিচারণে।

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রতাবনগরের শতবর্ষী ডা. আব্দুল বারী ও শালচুড়া গ্রামের আলহাজ্ব সরোয়ার্দী দুদু মণ্ডল সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বলেন, নতুন ধান ঘরে ওঠার পর গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হতো। ঢেঁকিতে ধান ভেনে নবান্নের আটা তৈরি করা হতো। এরপর শুরু হতো পিঠা-পায়েশ তৈরির আয়োজন। পরিবারের সবাই এতে অংশ নিতেন। শিশু-কিশোররা নেচে-গেয়ে আনন্দ করতো। সেই সময়ের পারিবারিক ও সামাজিক আনন্দের সঙ্গে ঢেঁকি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল। ধান ভানাকে শুধু গৃহস্থালির কাজ হিসেবে দেখা হতো না, এর সঙ্গে যুক্ত ছিল পারস্পরিক সহযোগিতা, লোকসংগীত ও গ্রামীণ সংস্কৃতি। এখন সেসব দৃশ্য অনেকটাই স্মৃতির অংশ হয়ে গেছে। শুধু ধান ভানাই নয়, ঢেঁকিছাঁটা চালের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে গ্রামীণ জীবনের দীর্ঘ ইতিহাস। আধুনিক যন্ত্রে দ্রুত ধান ভাঙানো সম্ভব হওয়ায় ঢেঁকির প্রয়োজনীয়তা কমেছে। শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও এখন রাইস মিল ও ফ্লাওয়ার মিলের বিস্তার ঘটেছে। ফলে ঘরের কোণে পড়ে থাকা পুরনো ঢেঁকিগুলোও একে একে হারিয়ে যাচ্ছে। প্রবীণদের মতে, আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবনযাত্রা বদলাবে-এটাই স্বাভাবিক।

তবে এর সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখার উদ্যোগও প্রয়োজন। কারণ ঢেঁকি শুধু ধান ভানার একটি কাঠের যন্ত্র নয়,এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামবাংলার নারীদের শ্রম, পারিবারিক বন্ধন, লোকগান, নবান্ন এবং একসময়ের সরল-স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সময়ের সঙ্গে শেরপুরের গ্রামেও বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন আর ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢেঁকির ‘ঠক ঠক’ শব্দ শোনা যায় না। নতুন ধানের ঘ্রাণে বাড়িতে বাড়িতে আগের মতো পিঠা তৈরির আয়োজনও নেই। যান্ত্রিকতার দ্রুতগতির কাছে হার মেনেছে ঢেঁকির ধীর ছন্দ। ঢেঁকির ছন্দ হয়তো থেমে গেছে, কিন্তু প্রবীণদের স্মৃতিতে এখনো বেঁচে আছে নবান্নের সেই দিন। ধান ভানার গান, উঠানের পিঠা-পায়েশ আর পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠার সেই সোনালি সময়।