শারদীয় দুর্গাপূজা: নড়াইলে ৫৪৩টি মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্ততি
আর একদিন পরই শুরু হবে সনাতন ধর্মবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ পূজাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে নড়াইলের তিনটি উপজেলার ৫৪৩টি মণ্ডপে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। আগামীকাল শুক্রবার ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে শুরু হচ্ছে ৬ দিনব্যাপী দুর্গাপূজা। ২১ অক্টোবর বিজয় দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
জেলার বিভিন্ন মন্দিরে দেখা যায়, মণ্ডপে মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমা প্রস্তুত করায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। প্রতিমা শিল্পীরা নিজেদের সাধ্যের সবটুকু উজাড় করে রং-তুলির আঁচড়ে তাদের পরম আরাধ্য দেবীকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে কাজ করছেন। এ ছাড়া প্যান্ডেল তৈরি ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য প্রস্ততিও চলছে পুরোদমে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এ বছর নড়াইল জেলার তিন উপজেলায় মোট ৫৪৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ২৪৯টি, লোহাগড়া উপজেলায় ১৫০টি এবং কালিয়া উপজেলায় ১৪৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠুভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পাশাপাশি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন উপলক্ষে নড়াইল জেলা পুলিশ জেলা সদরসহ প্রত্যন্ত এলাকায় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন।
কয়েকজন প্রতিমাশিল্পীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বেশ আগেই তেরি করেছেন প্রতিমা। এখন চলছে রঙতুলির কাজ। পূজা শুরুর শুভক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, তাদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। যথাসময়ে প্রতিমাকে বর্ণিল সাজে সাজিয়ে তুলতে নাওয়া-খাওয়া ভুলে তারা দিনরাত খেটে চলেছেন। খড় ও মাটির কাঠামো পেরিয়ে প্রতিমাগুলো এখন পেয়েছে পূর্ণ অবয়ব। খড়ের কাঠামোতে মাটির প্রলেপ, এরপর শুকানো, রং করা আর নিপুণ হাতে সাজসজ্জা সব মিলিয়ে শেষ পর্যায়ে প্রতিমা তৈরির কাজ। শিল্পীর রং-তুলির নিপুণ আঁচড়ে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমার সৌন্দর্য। শুধু প্রতিমা তৈরিই নয়, পূজাকে ঘিরে মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতিও চলছে সমানতালে। সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলছে তাদের কর্মযজ্ঞ। জেলার বিভিন্ন এলাকার পূজা উদযাপন কমিটির কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে তৈরি করছেন প্রতিমা। কাজের ধরন ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে প্রতিমার দাম। দুর্গা প্রতিমার পাশাপাশি তারা সরস্বতী ও কার্তিক প্রতিমাও তৈরি করে থাকেন।
নড়াইল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট পংকজ বিহারী ঘোষ অন্ন বলেন, ‘আমরা নড়াইল জেলার সকল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছি, যাতে শারদীয় দুর্গাপূজা সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়। এ লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুন্দর ও উৎসবমুখর দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারব বলে আশা করছি। সবাইকে জানাই শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা।,
নড়াইল জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন,‘আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে পালনের লক্ষ্যে প্রতিটি পূজামণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপ গুলোতে বিশেষ করে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয়পত্র প্রদান করা ও সিসিটিভির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।,
