মূল লেখায় যান
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে প্রয়োজন সচেতনতা ও সমন্বিত চিকিৎসা : ডা. শাহাদাত এইমাত্রঅন্যান্য শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে প্রয়োজন সচেতনতা ও সমন্বিত চিকিৎসা : ডা. শাহাদাত বাঁশখালী থেকে রহস্যজনক ভাবে দুই ভাই নিখোঁজ এইমাত্রঅন্যান্য বাঁশখালী থেকে রহস্যজনক ভাবে দুই ভাই নিখোঁজ বিটিভি ভবনের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ এইমাত্রঅন্যান্য বিটিভি ভবনের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ অক্টোবরে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১২, আহত ৩৩৪: এইচআরএসএস এইমাত্রঅন্যান্য অক্টোবরে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১২, আহত ৩৩৪: এইচআরএসএস নোবিপ্রবির ১.৩৩ একর জমি বেদখলে, অনিশ্চয়তায় স্কুল প্রকল্প  এইমাত্রঅন্যান্য নোবিপ্রবির ১.৩৩ একর জমি বেদখলে, অনিশ্চয়তায় স্কুল প্রকল্প  শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের এইমাত্রঅন্যান্য শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের বগুড়ার কলেজের কমিটি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘাত, লাঠিসোঁটা হাতে সড়কে অবস্থান এইমাত্রঅন্যান্য বগুড়ার কলেজের কমিটি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘাত, লাঠিসোঁটা হাতে সড়কে অবস্থান গুরুদাসপুরে কৃষকের বাড়িতে দফায় দফায় অগ্নিকান্ড, নিরাপত্তা দাবি এইমাত্রঅন্যান্য গুরুদাসপুরে কৃষকের বাড়িতে দফায় দফায় অগ্নিকান্ড, নিরাপত্তা দাবি
অন্যান্য

নোবিপ্রবির ১.৩৩ একর জমি বেদখলে, অনিশ্চয়তায় স্কুল প্রকল্প 

প্রতিবেদক:
নোবিপ্রবির ১.৩৩ একর জমি বেদখলে, অনিশ্চয়তায় স্কুল প্রকল্প 

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অধিগ্রহণ করা ১ দশমিক ৩৩ একর জমি ২০ বছরেও দখলে নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও আইনি জটিলতায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে প্রায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রকল্প। চলতি বছরের ১ জুন থেকে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও জমির দখল না পাওয়ায় এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক নথি অনুযায়ী, নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার মাধ্যমে ২০০৩-০৪ অর্থবছরে নোবিপ্রবির জন্য ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরে ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি সরকারি গেজেটের মাধ্যমে জমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে প্রকাশ করা হয়। তবে অধিগ্রহণ করা জমির মধ্যে সল্লা মৌজার ৭৬ নম্বর দাগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিআইপি গেস্টহাউস-সংলগ্ন ১ দশমিক ৩৩ একর জমি এখনো বেদখলে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জমিটির মালিকানা ও অধিগ্রহণপ্রক্রিয়া নিয়ে আব্দুস সাত্তারসহ কয়েকজনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরোধ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জমিটিকে তাঁদের বসতভিটা দাবি করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। পরে সরকারি গেজেট প্রকাশের পর অধিগ্রহণপ্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৮ সালে আব্দুস সাত্তারসহ কয়েকজন বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন।

২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ওই রিট খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জমির বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারীরা আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল পিটিশন দায়ের করেছেন। ফলে জমিটি নিয়ে আইনি জটিলতা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জমি দখলে নেওয়ার পরিবর্তে অধিগ্রহণ করা জমির মূল্য ফেরত চেয়ে তৎকালীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিক চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ২০০৮-০৯ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সঞ্জয় কুমার অধিকারীর সময়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০০৮ সালের ৮ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কাজী ফজলুল করিমের স্বাক্ষরে এবং ২০০৯ সালের ৭ জুলাই ও ১০ ডিসেম্বর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মমিনুল হকের স্বাক্ষরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তিনটি চিঠি পাঠানো হয়। এসব চিঠিতে জমির দখল বুঝে নেওয়ার পরিবর্তে অধিগ্রহণ করা জমির মূল্য ফেরত চাওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্রে পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে জমির তৎকালীন মালিকেরা ওই জমি ২১ জনের কাছে হস্তান্তর করেন। এতে জমির দখল বুঝে নেওয়ার বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়ে। বর্তমানে জমি-সংক্রান্ত রিটের বিরুদ্ধে দায়ের করা লিভ টু আপিল বিচারাধীন রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রকল্পটি নেওয়া হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুন দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কাজ শুরু করে ২০২৮ সালের ২৭ জানুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত জমির বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কর্মকর্তা আশীষ শীল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির বিরুদ্ধে আব্দুস সাত্তারসহ অন্যরা রিট করেছিলেন। তবে ওই রিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষেই রায় এসেছে। আশা করি, আমরা দ্রুত কাজ শুরু করতে পারব।’

প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মহিনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা জমির বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জমি-সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধানের মাধ্যমে প্রকল্পের পরবর্তী কাজ শুরু করার বিষয়ে আমরা আশাবাদী। পাশাপাশি দ্রুত দরপত্র আহ্বানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হবে।’

বেদখলে থাকা জমি উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ফলাফল পাব।’