মূল লেখায় যান
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
১০০টির বেশি নির্বাচন অফিসে অবকাঠামো দুর্বলতা, ভবন চেয়ে ইসির চিঠি এইমাত্রঅন্যান্য ১০০টির বেশি নির্বাচন অফিসে অবকাঠামো দুর্বলতা, ভবন চেয়ে ইসির চিঠি ‘আগে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডোতে চড়েন, আর জুলাই চেতনা বিক্রি করেন’ এইমাত্রঅন্যান্য ‘আগে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডোতে চড়েন, আর জুলাই চেতনা বিক্রি করেন’ বিলে শাপলা তুলতে গিয়ে ১ শিশুর মৃত্যু, আহত ১ এইমাত্রঅন্যান্য বিলে শাপলা তুলতে গিয়ে ১ শিশুর মৃত্যু, আহত ১ আধা ঘণ্টায় দখলমুক্ত ফুটপাত, দেড় ঘণ্টা পরই আবার বসছে দোকানপাট এইমাত্রঅন্যান্য আধা ঘণ্টায় দখলমুক্ত ফুটপাত, দেড় ঘণ্টা পরই আবার বসছে দোকানপাট মাদকসহ সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রেফতার এইমাত্রঅন্যান্য মাদকসহ সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রেফতার এইচএসসি'র প্রশ্ন আউট হলে সংশ্লিষ্টদের কঠিন শাস্তি: শিক্ষামন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য এইচএসসি'র প্রশ্ন আউট হলে সংশ্লিষ্টদের কঠিন শাস্তি: শিক্ষামন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এইমাত্রঅন্যান্য চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেষ মুহূর্তে স্থগিত অনুপম রায়ের ঢাকার কনসার্ট, জানা গেল কারণ এইমাত্রঅন্যান্য শেষ মুহূর্তে স্থগিত অনুপম রায়ের ঢাকার কনসার্ট, জানা গেল কারণ
অন্যান্য

কেরানীগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড, বঞ্চিত দরিদ্ররা

প্রতিবেদক:
কেরানীগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড, বঞ্চিত দরিদ্ররা

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত অসহায় ও নিম্নআয়ের বহু পরিবার কার্ড না পেলেও প্রবাসী ও তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারের সদস্যরা এই সুবিধার আওতায় এসেছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘৈর নগর এলাকায় সাথী বর্মন নামে এক ফ্রান্সপ্রবাসীর স্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। একই এলাকায় রাখী রানী নামের এক নারীর স্বামী কুয়েতপ্রবাসী এবং ছেলে সিঙ্গাপুরে কর্মরত থাকলেও তিনি কার্ডের সুবিধাভোগীর তালিকায় রয়েছেন। এছাড়া নাসরিন বেগম ও নাহিদা আক্তারের স্বামীরাও প্রবাসে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু প্রবাসী পরিবারের সদস্যরাই নন, যাঁদের নিজস্ব বহুতল ভবন, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে নিয়মিত আয় রয়েছে, এমন ব্যক্তিরাও ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। অথচ একই এলাকার অনেক নিম্নআয়ের পরিবার, দিনমজুর ও অসহায় মানুষ আবেদন করেও এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁদের দাবি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে প্রকৃত দরিদ্রদের পরিবর্তে প্রভাবশালী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

সুবিধাবঞ্চিত জবেদা বেগম বলেন, আমার স্বামী মারা গেছেন। ছোট ছোট সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালাই। আশা করেছিলাম ফ্যামিলি কার্ড পাব। কিন্তু পাইনি। অথচ এলাকার অনেক সচ্ছল পরিবার কার্ড পেয়েছে।

চিনু দে বলেন, কারখানায় কাজ করে সংসার চালাই। ফ্যামিলি কার্ড পেলে কিছুটা উপকার হতো। কিন্তু আমার নাম তালিকায় আসেনি। যাদের রাজনৈতিক প্রভাব আছে কিংবা নেতাদের আত্মীয়-স্বজন, তারাই কার্ড পেয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা-৩ আসনের আওতাধীন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘৈর-ঋষিপাড়া, বাঘৈর নগর, আলিয়াপাড়া, কদমপুর ও শাস্তা গ্রামে ৫০৯টি হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য ছিল সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সহায়তা দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, উচ্চবিত্ত, প্রবাসী ও সচ্ছল পরিবারের সদস্যরাও কার্ড পেয়েছেন। সমাজসেবা অফিসের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং স্থানীয় নেতাদের স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হয়েছেন।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবলীজ্জামান বলেন, এটি আমাদের একটি পাইলট প্রকল্প। কোনো প্রকৃত উপকারভোগী বাদ পড়ে থাকলে তাঁকে তালিকাভুক্ত করা হবে। আবার কারও বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী তালিকা পুনরায় যাচাই করে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোনো অনিয়ম বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।