মূল লেখায় যান
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
এসএসসির ফল প্রকাশ: নিজেদের ফল নিয়ে যা বলেছিলেন দীঘি ও পূজা এইমাত্রঅন্যান্য এসএসসির ফল প্রকাশ: নিজেদের ফল নিয়ে যা বলেছিলেন দীঘি ও পূজা রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি: চিফ হুইপ এইমাত্রঅন্যান্য রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি: চিফ হুইপ এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেল জমজ দুই ভাই এইমাত্রঅন্যান্য এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেল জমজ দুই ভাই ‘ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন, সাকিব নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ’ এইমাত্রঅন্যান্য ‘ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন, সাকিব নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ’ ভূরুঙ্গামারী সীমান্তে বিএসএফ এর হাতে বাংলাদেশী যুবক আটক এইমাত্রঅন্যান্য ভূরুঙ্গামারী সীমান্তে বিএসএফ এর হাতে বাংলাদেশী যুবক আটক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী গোপালপুরে এসএসসি ও সমমানে ৩০ শতাংশের নিচে পাস সাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইমাত্রঅন্যান্য গোপালপুরে এসএসসি ও সমমানে ৩০ শতাংশের নিচে পাস সাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইরানের হামলার ভয়ে ট্রাকে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প এইমাত্রঅন্যান্য ইরানের হামলার ভয়ে ট্রাকে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প
অন্যান্য

ভুয়া জাল সনদ, রোল-রেজিস্ট্রেশন ও নাম অনলাইনে মিলিয়ে দিতেন তিনি

প্রতিবেদক:
ভুয়া জাল সনদ, রোল-রেজিস্ট্রেশন ও নাম অনলাইনে মিলিয়ে দিতেন তিনি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের লক্ষ্য করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ভুয়া শিক্ষাগত সনদ তৈরি এবং অনলাইনে তা যাচাইযোগ্য দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শিক্ষার্থীদের রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও তথ্য ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তির নামে জাল সনদ তৈরি করা হতো। ফলে অনলাইনে প্রাথমিকভাবে তথ্য মিললেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিস্তারিত যাচাইয়ে ধরা পড়ে পুরো প্রতারণার চিত্র।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে কয়েকটি চাকরির ক্যাটাগরিতে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক হওয়ায় অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী দ্রুত শিক্ষাগত সনদের ব্যবস্থা করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মো. রিয়াজ (৪০), মো. নয়া মৃধ্যার ছেলে, যার গ্রামের বাড়ি তালতলী, দুমকী উপজেলা, পটুয়াখালী (বরিশাল বিভাগ), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি সনদ, নম্বরপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন। তিনি দাবি করতেন, অনলাইনে রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর যাচাই করলেও তথ্য পাওয়া যাবে। এই আশ্বাসে বিশ্বাস করে অনেকে এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ করেন।

একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টাকা নেওয়ার পর তাদের রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া হতো। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রিন্টেড সনদও সরবরাহ করা হতো। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রাথমিকভাবে তথ্য দেখা যাওয়ায় অনেকেই সনদকে আসল বলে বিশ্বাস করেন।

কিন্তু বিদেশে ব্যবহারের জন্য সনদগুলো অ্যাপোস্টিল (Apostille) ও আন্তর্জাতিক ভেরিফিকেশনের জন্য জমা দেওয়ার পর বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র। যাচাইয়ে দেখা যায়, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকলেও আবেদনকারীর নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য প্রকৃত শিক্ষার্থীর তথ্যের সঙ্গে মিলছে না। তখনই প্রকাশ পায়, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর একজনের হলেও সনদটি অন্য ব্যক্তির নামে তৈরি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, প্রথমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাটাবেজে একই বা কাছাকাছি নামের কোনো প্রকৃত শিক্ষার্থী রয়েছে কি না তা খুঁজে বের করা হতো। এরপর সেই শিক্ষার্থীর রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তির নামে জাল সনদ প্রস্তুত করা হতো। ফলে অনলাইনে সীমিত তথ্য দেখা গেলেও বিস্তারিত যাচাইয়ের সময় প্রকৃত পরিচয়ের সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যেত না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জালিয়াতির বিষয়টি জানিয়ে যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতেন। কখনো তথ্য সংশোধনের আশ্বাস, আবার কখনো অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হতো। কয়েকজন অতিরিক্ত অর্থ দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান পাননি। অনেকের চাকরির সুযোগও নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে এর আগেই দুটি মামলা রয়েছে। প্রতিবেদকের হাতে থাকা নথিতে তার বিরুদ্ধে একটি পুলিশ (পিপি) মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার নথিতে তার পরিচয়, ছবি ও মামলার বিবরণ উল্লেখ রয়েছে। মামলাগুলোর বর্তমান বিচারিক অবস্থার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. রিয়াজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো প্রতারণার সঙ্গে জড়িত নন। তবে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমার নামে একাধিক মামলা আছে। আরও কয়েকটা মামলা হলে সমস্যা নাই।”

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের দাবি, অর্থ লেনদেনের রসিদ, কথোপকথনের রেকর্ড, সনদের কপি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ দায়ের করবেন।

আইন ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবহার করে অন্যের নামে শিক্ষাগত সনদ তৈরি করা শুধু প্রতারণাই নয়, এটি রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থার তথ্য নিরাপত্তা ও শিক্ষাগত সনদের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যও বড় হুমকি। তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া অর্থ ফেরত এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদেশগামী ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের যেকোনো শিক্ষাগত সনদ তৈরির ক্ষেত্রে সরাসরি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।