মূল লেখায় যান
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত এইমাত্রঅন্যান্য বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত ফের নতুন ফোনের নামে ব্যবহৃত ফোন বিক্রির অভিযোগ কেআরওয়াই ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে এইমাত্রঅন্যান্য ফের নতুন ফোনের নামে ব্যবহৃত ফোন বিক্রির অভিযোগ কেআরওয়াই ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশ এইমাত্রঅন্যান্য শিক্ষকদের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশ আমেরিকার ঘাঁটিতে ইরানের হামলা; সুপার ট্যাংকারে আগুন এইমাত্রঅন্যান্য আমেরিকার ঘাঁটিতে ইরানের হামলা; সুপার ট্যাংকারে আগুন চোখেমুখে বনদস্যু আতঙ্ক আর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বনে যাচ্ছেন বনজীবীরা এইমাত্রঅন্যান্য চোখেমুখে বনদস্যু আতঙ্ক আর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বনে যাচ্ছেন বনজীবীরা শরীয়তপুরে সিএনজি-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ৩ এইমাত্রঅন্যান্য শরীয়তপুরে সিএনজি-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ৩ প্রিপেইড মিটার ও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ডিপিডিসির জরুরি বার্তা এইমাত্রঅন্যান্য প্রিপেইড মিটার ও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ডিপিডিসির জরুরি বার্তা ৬ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস এইমাত্রঅন্যান্য ৬ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস
বাংলাদেশ

কয়েক মিনিটে গাড়িতে ২২ গুলি, আটক ৪ সন্দেহভাজন

প্রতিবেদক: স্টাফ রিপোর্টার, বাংলা ব্রিফ
কয়েক মিনিটে গাড়িতে ২২ গুলি, আটক ৪ সন্দেহভাজন

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে প্রকাশ্যে রাস্তায় দুই হাত দূর থেকে গুলি করে খুন করা আবদুল হাকিমের (৫২) শরীরে ১০টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের করা সুরতহাল প্রতিবেদনে এসব আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে। তবে সব আঘাত গুলির কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। হামলার শিকার হওয়ার সময় আবদুল হাকিম যে গাড়িতে ছিলেন তাতে গুলির ২২টি চিহ্ন দেখা গেছে। গাড়িটির সামনের দুটি চাকা গুলিতে ফুটো হয়ে যায়। গাড়ির সামনের কাচে এবং মূল কাঠামোয় চারটি, নিহত আবদুল হাকিম বসে থাকা বাঁ পাশের জানালার কাচে ১২টি এবং চালকের আসনের পাশের জানালায় করা হয় ৬টি গুলি। এই হত্যা মিশনে সরাসরি অংশ নিয়েছিল তিনটি মোটরসাইকেলে আসা মোট ৬ জন। তারা প্রত্যেকেই ছিল মুখোশ পরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির নজির বলছে বিএনপি। এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, এই সহিংস ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির একটি বড় ধরনের নজির। এই রক্তাক্ত ঘটনা ওই এলাকার জনমনে উদ্বেগ ও ভীতির সঞ্চার করেছে। এ ছাড়া প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আকবর খোন্দকার।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নের মদুনাঘাট বাজারের ওয়াসার পানি শোধনাগার প্রকল্পের মূল ফটকের সামনে মুখোশধারী কয়েকজন যুবক আবদুল হাকিমের প্রাইভেটকার আটকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় তিনি রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের গ্রামের বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম শহরের বাসায় ফিরছিলেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে নগরের বেসরকারি একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। রাউজানের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে তাদের আটক করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ। তবে আটক ব্যক্তিদের নাম পরিচয় জানানো হয়নি। তিনি বলেন, সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির নজির বলছে বিএনপি: আব্দুল হাকিম হত্যার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার গভীর রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, এই সহিংস ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির একটি বড় ধরনের নজির। এই রক্তাক্ত ঘটনা ওই এলাকার জনমনে উদ্বেগ ও ভীতির সঞ্চার করেছে। বর্তমানে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, চারদিকে অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা ও হতাশা বিরাজমান, যা এই বর্তমান সরকারের কাছ থেকে জনগণ প্রত্যাশা করে না। জনপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয়তার কারণেই দুষ্কৃতকারীরা অপকর্মে মেতে উঠেছে। সমাজের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসন নিষ্ক্রিয়, সে কারণে এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি। জনগণ এই অরাজক পরিস্থিতির দ্রুত অবসান দেখতে চায়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উল্লিখিত সহিংস ঘটনা সম্পূর্ণরুপে সমাজবিরোধী কিছু দুর্বৃত্ত চক্রের পরিকল্পিত হিংস্র কর্মকাণ্ড। এর সঙ্গে রাজনীতি বা বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। নিহত ব্যক্তি ও দুষ্কৃতকারীদের কেউই বিএনপির নেতাকর্মী নন। কয়েকটি গণমাধ্যমে নিহত ব্যক্তিকে বিএনপির কর্মী বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন। বিএনপি রাউজানের সন্ত্রাসী ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং অবিলম্বে এলাকায় আধিপত্যকামী দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।