নিয়ে নিচ্ছে মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোন, জানা গেল গোপন কারণ
ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অবস্থান ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য ফাঁস ঠেকাতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করা হতে পারে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এমন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সেনাদের উদ্দেশে পাঠানো ২৮ জুলাইয়ের এক চিঠিতে সতর্ক করে বলেছেন, সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ছবি, ভিডিও কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ইরানকে প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার সফলতা বা ব্যর্থতা মূল্যায়নে সহায়তা করছে।
চিঠিতে কুপার বলেন, “এই উন্মুক্ত তথ্যের মূল্য শেষ পর্যন্ত মার্কিন সেনা ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক মানুষের জীবন দিয়েই দিতে হতে পারে।” তাই তিনি সেনাদের অপারেশনাল নিরাপত্তা (Operational Security) আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানি হামলার ঝুঁকিতে থাকা জর্ডানে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করা হতে পারে। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, পুরো অঞ্চলে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে, যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ বিষয়ে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স বলেন, অ্যাডমিরাল কুপারের বার্তাটি মূলত সেনাদের অপারেশনাল নিরাপত্তার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য। এটি নিরাপত্তা জোরদারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি মাসে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় এক মার্কিন সেনা মেটা স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত হলে ঘাঁটির বাঙ্কার ও সেনাদের আশ্রয় নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসে।
অ্যাডমিরাল কুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনীর ইলেকট্রনিক জ্যামিং ব্যবস্থার কারণে ইরানের পক্ষে সাধারণত হামলার প্রকৃত ফলাফল জানা কঠিন। কিন্তু সংবাদ প্রতিবেদন, ছবি ও সেনাদের মোবাইল ভিডিও প্রকাশিত হলে ইরান বিনা খরচায় নিজেদের হামলার ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন (Battle Damage Assessment) করতে সক্ষম হয়। এতে একই লক্ষ্যবস্তুতে আরও ভয়াবহ দ্বিতীয় দফা হামলার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
রয়টার্স জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সেনাদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ফাঁস রোধে মোবাইল ফোন ব্যবহারে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ।
