৪০০ মার্কিন সেনা নিহতের দাবি, কারণও ব্যাখ্যা ইরানের বার্তা সংস্থার
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃত তথ্য গোপন করছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি (এমএনএ)। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে সংস্থাটি এ দাবি করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের নতুন নথির বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে, যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে অন্তত ৪০০ মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৪ জন কর্মকর্তা, দুইজন জেনারেল এবং বিপুলসংখ্যক রিজার্ভ সদস্য রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অন্তত ১৭০ জন সেনা মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
মেহর নিউজের বিশ্লেষণে মার্কিন সেনাহতাহতের পেছনে কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথমত, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে—বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে—যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য সামরিক ঘাঁটি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় সেগুলো ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরাক, সিরিয়া, জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে থাকা এসব ঘাঁটি রক্ষা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
দ্বিতীয়ত, উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলার পর হতাহতের সংখ্যা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র সেনাদের একটি অংশ জর্ডান ও সিরিয়ায় স্থানান্তর করলেও তাতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, জর্ডানে মার্কিন সেনারা সবচেয়ে বেশি হতাহতের শিকার হয়েছেন এবং সিরিয়ার আল-তানফ ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তৃতীয়ত, প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মার্কিন সেনাদের মনোবল ও সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার মধ্যে অধিকাংশ মার্কিন ঘাঁটি থাকায় ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে বলেও দাবি করা হয়।
চতুর্থত, যুক্তরাষ্ট্রের War Powers Act, 1973 এড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধবিরতি ও নতুন সামরিক অভিযানকে পৃথক অভিযান হিসেবে উপস্থাপন করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ কৌশলের মাধ্যমে কংগ্রেসের নতুন অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
তবে মেহর নিউজের প্রতিবেদনে উত্থাপিত এসব তথ্য ও পরিসংখ্যানের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)ও এসব দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
