মূল লেখায় যান
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

এই প্রথম লিখতে শুরু করেছি, সব লিখবো, যা লিখবো সত্য লিখবো: রাহুল

প্রতিবেদক:
এই প্রথম লিখতে শুরু করেছি, সব লিখবো, যা লিখবো সত্য লিখবো: রাহুল

২০২৪ সালের ৭ আগস্টের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা এক আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় গানের দল জলের গানের শিল্পী রাহুল আনন্দ। ভয়াবহ আগুনের কবল থেকে স্ত্রী উর্মিলা ও ছেলেকে নিয়ে বের হওয়া, আশ্রয়ের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘোরা এবং একের পর এক জায়গা বদলের সেই দুঃসহ সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি।

রাহুল জানান, ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট দ্বিতীয়বারের মতো আগুনের মধ্য থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বের হতে হয়েছিল তাকে। তখন কোথাও আশ্রয় মিলছিল না। ভয় ও নানা দ্বিধার কারণে অনেকেই তাদের আশ্রয় দিতে চাইছিলেন না।

তবে এর আগে এক বন্ধু মানবিকতার পরিচয় দিয়ে ৫ আগস্ট রাত আড়াইটার দিকে স্ত্রী-পুত্রসহ রাহুলকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আশ্রয়ও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

রাহুলের বর্ণনা অনুযায়ী, ভবনের নিচের কলাপসিবল গেটে তালা লাগিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তারা তখন ছিলেন তৃতীয় তলায়। নিচের গ্যারেজে থাকা দুটি গাড়ি এবং দ্বিতীয় তলাতেও আগুন দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে, একপর্যায়ে বেঁচে থাকার আশাও ছেড়ে দিয়েছিলেন তারা।

সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথা স্মরণ করে রাহুল লিখেছেন, ‘বন্ধুর কন্যা আর নিজের স্ত্রী-পুত্রের হাত ধরে মৃত্যুর জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম আমরা! দাঁড়ানোও যাচ্ছিল না, ফ্লোর এতটাই গরম হয়ে উঠছিল।’

ওই রাতেই ধোঁয়ার ভয়াবহতাও উপলব্ধি করেন তিনি। রাহুলের ভাষায়, ‘সেদিন জেনেছি—সবচেয়ে বড় আর ভয়ংকর দৈত্যের নাম ধোঁয়া!’

কালো ধোঁয়ায় তার শিশুপুত্রের শ্বাসকষ্টের কথাও তুলে ধরেছেন এই শিল্পী। তিনি জানান, ভারী ধোঁয়ার মধ্যে তার ছেলের শরীর নীল হয়ে যাচ্ছিল। শ্বাসের সঙ্গে ধোঁয়া ঢুকে শ্বাসনালিতে তীব্র জ্বালাপোড়া তৈরি করছিল।

রাহুল জানান, বন্ধুর মেয়ের সাহস এবং এক অলৌকিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই সেদিন তারা প্রাণে বেঁচে যান। সেই মেয়ের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি। নিজের মেয়ের মতো করেই তাকে দেখেন বলে জানান রাহুল।

সেই রাতের একটি কথোপকথনের কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। পরিস্থিতির মধ্যে তার স্ত্রী উর্মিলা কষ্টে তাকে বলেছিলেন, ‘রাহুল, আমি আর পারছি না!’

পরবর্তী সময়ে কয়েকজন বন্ধু তাদের অন্য একটি আশ্রয়ে নিয়ে যান। রাহুল জানান, সেই ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত নবম আশ্রয়ে রয়েছেন তারা। এখনো স্থায়ীভাবে কোথাও ঘর বাঁধতে পারেননি। নিজের ভাষায়, তিনি এখন ‘উড়ছেন আর ঘুরছেন’, পৃথিবী দেখছেন ‘বাউলের বেশে’।

তবে রাহুলের এই পোস্ট কেবল অতীতের ভয়াবহ স্মৃতিচারণ নয়। নিজের অভিজ্ঞতাগুলো এবার লিখে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, যা লিখবেন, সত্যই লিখবেন।

রাহুল লিখেছেন, ‘এই প্রথম লিখতে শুরু করেছি, সব লিখবো, যা লিখবো সত্য লিখবো—এই ফেসবুক আদালতে।’

সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকের কাছে অপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবু নিজের পূর্বপুরুষ ও আগামী প্রজন্মের কাছে দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে রাহুল বলেন, সত্যটুকু না জানালে একদিন তিনি নিজেকেই দায়ী মনে করবেন।