পঞ্চগড়ে এবার মুখ খুললেন জমি দখল চেস্টায় অভিযুক্ত এনসিপি নেতা
পঞ্চগড়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের জমি দখলচেষ্টার সাথে অভিযুক্ত এনসিপি নেতা মোজাম্মেল হক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার সকালে সদর উপজেলার কাগজিয়াপাড়া হাজী মার্কেটে ভুক্তভোগী পরিবারের আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পঞ্চগড় পৌর এনসিপি’র যুগ্ম সমন্বয়কারী মোজাম্মেল হক, কাগজিয়াপাড়া এলাকাবাসী হাজী আকবর আলী, আলফাজউদ্দিন, আব্দুর রশিদ এবং মোজাম্মেল হকের মা মহিলা খাতুন বক্তব্য দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক জানান, তাঁর বিরুদ্ধে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মশিউর রহমান মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে মিডিয়ায় অপপ্রচার করেছেন। তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, তাঁর সাথে কাগজিয়াপাড়ায় মশিউর রহমানের ক্রয়কৃত ১৩ শতাংশ জমির কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি কোনো দখলচেষ্টা করেননি। তাঁর খালাতো ভাই রমজানের ওই জমিতে শর্ত রয়েছে। এজন্য ওই জমির কাগজপত্র নিয়ে তাঁর বাসায় রমজান এসেছিলেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে মশিউর রহমান তাঁর নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন। তিনি ওই জমির দখলচেষ্টা তো দূরের কথা, বরং মশিউর রহমান তাঁকে আসামি করে আদালত ও থানায় অভিযোগসহ মামলা দায়ের করেছেন। তবে সেই মামলার রায় মশিউরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
মোজাম্মেল হকের মা মহিলা খাতুন বলেন, মশিউর রহমানের ভায়রা তালেবের বাসার সাথে বসবাস করায় তাঁকে গালিগালাজ, মারধরসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। কাগজিয়াপাড়ার ওই নালিশি জমি দাবি করা আব্দুর রশিদ, আলফাজউদ্দিন, হাজী আকবর আলী জানান, ওই জমির সাথে মোজাম্মেল হকের কোনো অংশীদারিত্ব নেই, তবুও মোজাম্মেল হককে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এখানে মোজাম্মেল হক জমি দখলচেষ্টার সাথে জড়িত নন। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এ সময় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মশিউরের বিচার দাবি করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে হাজী আকবর আলী ও আব্দুর রশিদ জানান, তাঁদের পরিবার ১৯৬২ সালের রেকর্ড ও খতিয়ান অনুযায়ী ওই জমির প্রকৃত মালিক। ভুয়া রেকর্ড এবং জমির ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ওই খতিয়ানের ৭৬ শতক জমি বারবার কেনাবেচা হয়েছে। তবে তাঁরা দলিল বাতিল এবং আরএস রেকর্ড সংশোধনের মামলা করেছেন। তাঁরা আশা করছেন, অতি দ্রুত রায় তাঁদের পক্ষে আসবে। তাঁরা আরও জানান, বারবার কেনাবেচা হলেও ওই জমিটি বর্তমানে ফাঁকা রয়েছে, কোনো চাষাবাদ কিংবা স্থাপনা নেই। এ সময় আব্দুর রশিদ বলেন, এই জমির দখল নিয়ে মোজাম্মেল হককে অন্যায়ভাবে হয়রানি করছেন মশিউর রহমান।
