এসডিজির মূল রূপরেখা বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকারে আগেই ছিল: আমির খসরু
আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম আলিবাবা, আমাজন ও ইবের মতো বাজারে এসব পণ্যকে উপযোগী করে তুলতে পারলে একটি ১০ টাকার পণ্যও মানোন্নয়নের মাধ্যমে ৩০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এতে কারিগরদের আয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে এ ধরনের উদ্যোগকে টেকসই করতে স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থায়ন ও মনিটাইজেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরে থাকা শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান আমির খসরু। তিনি বলেন, ঢাকায় একটি নির্দিষ্ট এলাকায় থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে আলোকসজ্জা, মেকআপসহ থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার শিল্পী ও কারিগরদের এক প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে।
ক্রীড়া অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, খেলাধুলাকে ঘিরে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে। দেশটির মতো বাংলাদেশেও গ্রামীণ পণ্যের মানোন্নয়ন করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ই-কমার্সের মাধ্যমে সেগুলো বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রান্তিক কারিগরদের আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে নীতিগত সহায়তা ও বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার, এনজিও ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ফ্যাশন ডিজাইনার, তাঁত বিশেষজ্ঞ ও মাঠপর্যায়ের সমন্বয়কারীরা একসঙ্গে কাজ করছেন। বিভিন্ন এলাকায় পাইলট প্রকল্প পরিচালনার মাধ্যমে সম্ভাব্য ত্রুটি চিহ্নিত ও সংশোধন করা হচ্ছে।
দেশের সব সামাজিক শ্রেণির মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান।
আমির খসরু বলেন, এসডিজি কোনো করুণা বা দানের বিষয় নয়; বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা সুপ্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর একটি প্রক্রিয়া। তিনি বিএনপির আগের সরকারগুলোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সময়েও দেশে বিভিন্ন টেকসই উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক ইশতেহার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত এসডিজির সূচকগুলোর চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারবে। এটি শুধু নীতি বা খাতা-কলমের বিষয় নয়; এর পেছনে রয়েছে একটি দৃঢ় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, যার বাস্তব প্রতিফলন দ্রুত দেখা যাবে।
